গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকার মধ্য দিয়ে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার তথা সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে জবাবদিহির মুখোমুখি দাঁড় করানোর তাগিদ দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদকর্মীদের সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে সূক্ষ্মভাবে বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে ত্রুটি-বিচ্যুতি বের করা উচিত। তবে কেবলমাত্র কন্টেন্টের ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এমন কোনো নেতিবাচক উপস্থাপন করা উচিত নয়, যা সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়।
১৭ আগস্ট সোমবার মধ্যাহ্নে বাগেরহাট প্রেসক্লাব আয়োজিত এক গণসংবর্ধনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রী মন্তব্য করেন, ব্যবসায়িক খাতের বিকাশ ঘটে অর্থে, আর সংবাদকর্মীদের পেশাগত উন্নতি নির্ভর করে বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধান, দায়িত্বজ্ঞান ও দেশপ্রেমের ওপর। তাই অর্থ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ সাংবাদিকদের মূল আকর্ষণ হতে পারে না। মূলত সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও দাবি আদায়ে সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্য নিয়েই সাংবাদিকতার সূচনা হয়েছিল।
সংবাদকর্মীদের জীবনমানের বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখোমুখি হয়ে কাজ করা এই পেশাজীবীদের জন্য মর্যাদাশীল ও অভাবমুক্ত জীবনযাপনের পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। তবে বিত্ত-বৈভবের পেছনে ধাবিত হলে সাংবাদিকতার মূল দর্শন ও লক্ষ্যই ভেস্তে যেতে পারে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান প্রশাসন দেশ গঠনে নিবেদিতভাবে কাজ করছে এবং একই লক্ষ্য অর্জনে লেখুনীর মাধ্যমে দেশের রূপান্তরে সাংবাদিকদের এগিয়ে আসতে হবে। এই পরিবর্তন অবশ্যই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্রের মৌলিক স্বার্থের অনুকূলে হতে হবে। সরকার নিজেদের ত্রুটি সংশোধন করতে আগ্রহী এবং সেই শোধরানোর যাত্রায় সাংবাদিকদের বিচক্ষণ উপস্থিতি আশা করে। হাতে হাত রেখে জাতীয় সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত হওয়াকে এই প্রশাসনের মূল দর্শন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
দক্ষিণবঙ্গের সার্বিক অগ্রগতির প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভৌগোলিক এই অঞ্চলের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে সরকার। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত অগ্রগতি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকেও প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম সহ স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে সম্মাননা ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।