শুক্রবার, 23 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

প্রশান্ত মহাসাগরে রেকর্ড ভাঙা উষ্ণতার আশঙ্কা

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বুধবার তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে।

প্রশান্ত মহাসাগরে রেকর্ড ভাঙা উষ্ণতার আশঙ্কা
প্রশান্ত মহাসাগরের জলরাশি ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর উষ্ণতার কবলে পড়তে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী বন্যা, খরা ও প্রচণ্ড দাবদাহের মতো মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা প্রকাশ করে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে জাতিসংঘ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) বুধবার তাদের সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বর্তমান এল নিনো পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে। চলতি বছরের নভেম্বর থেকে আগামী জানুয়ারির মধ্যে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী ডিসেম্বরে এই উষ্ণতা একেবারে চরম সীমায় পৌঁছাবে।

ডব্লিউএমও-এর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, সংস্থার নথিপত্রে এর আগে কখনোই এত বিপুল মাত্রায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অতীতে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং তাতেই গোটা বিশ্বে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এবার সেই মাত্রাও ছাড়িয়ে যাওয়ার ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মূলত এল নিনো হলো এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন নামক একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের উষ্ণ ধাপ, যা পুরো পৃথিবীর আবহাওয়া ও বৃষ্টির স্বাভাবিক ধারাকে বদলে দেয়। এটি সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্টি না হলেও, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জেরে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা প্রতিনিয়ত বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার এমন চরম বিরূপ আচরণের ফলে সাধারণ মানুষের বাসস্থান, পানীয় জলের সংস্থান, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং সার্বিক চিকিৎসাসেবার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী নভেম্বর মাস থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় যেমন বন্যার প্রবল শঙ্কা তৈরি হবে, ঠিক তেমনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টির অভাবে কৃষিকাজ এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে অতিবৃষ্টির শঙ্কার কথাও জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

আসন্ন এই ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতিসংঘ ও বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জরুরিভিত্তিতে সমন্বিত আগাম প্রস্তুতি গ্রহণের তাগিদ দিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক টম ফ্লেচার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ধ্বংসাত্মক গোলার সঙ্গে তুলনা করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি জানান, এই বিপর্যয়ের কারণে এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল, লাতিন আমেরিকা এবং পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকায় মারাত্মক খরা, বন্যা ও দাবদাহ দেখা দেবে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, চরম এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলস্বরূপ বিশ্বের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যাভাবের শিকার হতে পারেন।