যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান বারাক ওবামার তীব্র সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ওবামাকে ‘চরম অযোগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতার প্রতি তোপ দেগে তিনি দাবি করেন, তারা ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করবে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলবে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে ডেমোক্র্যাটদের পুনরায় ঘুরে দাঁড়ানোর একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি বদলাতে ট্রাম্পের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষদের ওপর রিপাবলিকান দলের প্রভাব কমার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট এবং গভর্নর পদগুলোতে দুই দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নেমে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর সমালোচনা করেছেন বারাক ওবামা। বিশেষ করে ইরান সংঘাত এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ইস্যুতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে একহাত নেন। শনিবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান প্রশাসনের বোকামিগুলোকে লাগাম টেনে ধরার জন্য এই নির্বাচনই দেশবাসীর সামনে শেষ বড় সুযোগ। বিপরীতে, জর্জিয়ার এক সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সরকারের অভিবাসন ও শুল্ক নীতির সাফল্য তুলে ধরে অনুসারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমেরিকা এখন এক সুবর্ণ যুগে পদার্পণ করেছে।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে এবং ট্রাম্প তার মেয়াদের বাকি সময়ে কতটা নির্বিঘ্নে নিজের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবেন। ইতোমধ্যেই আগাম ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং গত শনিবার ফ্লোরিডায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সাথে নিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ট্রাম্প।
ওহাইও এবং মিশিগানে প্রচারণায় অংশ নিয়ে ওবামা মূলত ট্রাম্প এবং তার মন্ত্রিপরিষদের ব্যর্থতাগুলো তুলে ধরেন। হোয়াইট হাউসের সাজসজ্জা বদলানোর বিষয়ে ট্রাম্পের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে তিনি উপহাসও করেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে অর্থনৈতিক দুর্দশা এবং মূল্যস্ফীতির কারণে যেসব ভোটার ডেমোক্র্যাটদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে ওবামা বর্তমান অর্থনীতির বেহাল দশার জন্য ট্রাম্পকেই সরাসরি দায়ী করেন।
ইরান ও ইউক্রেন সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে ট্রাম্পের ওপর চাপ বাড়ছে। জর্জিয়ার পেরি শহরে আয়োজিত সমাবেশে অর্থনৈতিক প্রসঙ্গের অবতারণা করে তিনি জানান, শুল্ক খাত থেকে সরকার প্রচুর অর্থ আয় করছে। একইসাথে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।
এদিকে, ওহাইওতে ওবামার সমালোচনার মূল লক্ষ্য ছিলেন ট্রাম্প। ইরান যুদ্ধের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অস্থিরতার সুযোগে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরান একচেটিয়া ক্ষমতা পেয়ে গেছে। ওহাইওতে ওবামার এই সমাবেশের মূল উদ্দেশ্য ছিল সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউনের পক্ষে জনসমর্থন আদায় করা, যিনি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর জন হাসটেডের বিপক্ষে লড়ছেন। এছাড়া অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর বিপরীতে লড়ছেন অ্যামি অ্যাকটন।