আশ্বাসেই উত্থানে ফিরলো পুঁজিবাজার

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল রবিবার লেনদেন ৮শ কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। এসময় বিক্রেতা কমে গিয়ে শেয়ার ক্রেতায় হিড়িক পড়ে। এদিন ৯০ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দরে বেড়েছে। সব ধরনের সূচক উত্থান হয়। শেয়ার দর উত্থানের একই অবস্থা অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)। ৮২ ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেনও বেড়েছে। সব ধরনের সূচক উত্থান হয়।

রেগুলেটরদের বিভিন্ন উন্নয়ন পরও দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজার পতনের কবলে। সেই পতন দিন দিন বাড়ছিলো। পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নীরবে কেঁদেছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় পুঁজিবাজার উত্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার আগারগাওয়ে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাই ধৈর্য ধরুন, পুঁজিবাজার আগামী সপ্তাহে ভালো হবে। এমন আশ্বাসের ঠিক পরের কার্যদিবস গতকাল রবিবার সত্যিই ঘুরে দাঁড়ালো পুঁজিবাজার বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) ৮৬ দশমিক ৭২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৯০ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং সিএসইর ৮২ দশমিক ৭৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। পুঁজিবাজারে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং সিএসইর ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের বৃদ্ধির স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইতে ৫ খাতের শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। শতভাগ দর বৃদ্ধির খাতগুলো হলো- সিরামিক, খাদ্য আনুষঙ্গিক, বিবিধ, সেবা আবাসন এবং চামড়া। ব্যাংক, বস্ত্র, বিমা, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ রসায়ন, নন ব্যাংকিং আর্থিক, জ্বালানী শক্তি, ফান্ড, সিমেন্ট, আইটি, পাট, পেপার, টেলিকম, টেলিকম এবং ভ্রমন অবসর খাতের অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। শেয়ার দর বৃদ্ধির একই চিত্র ছিল পুঁজিবাজার সিএসইতে। দুই স্টকের এ ধরনের শেয়ারের দর বৃদ্ধিকে স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

ডিএসইতে গতকাল রবিবার লেনদেন হয়েছে ৮৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ৫৩৯ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ৩৪২টির, কমেছে ২৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১০টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫০ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৩৭ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১০ দশমিক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩০৭ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৩৭৩ দশমিক ৭০ পয়েন্টে।

ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। ডিএসইতে বেক্সিমকো ৫৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন আইপিডিসি ফাইন্যান্স ৪৩ কোটি ৩ লাখ টাকা, বিডি ফাইন্যান্স ৩২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৩০ কোটি ৮২ লাখ টাকা, আরডি ফুড ৩০ কোটি ৪ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ২৮ কোটি ১৯ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, এসিআই ফরমুলেশন ২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ১৯ কোটি ৫১ লাখ টাকা এবং শাইনপুকুর সিরামিকস ১৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

অপরদিকে চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। গত বৃহস্পতিবার লেনদেন হয়েছিল ১৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ২৩০টির, কমেছে ৩৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ১৪টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৩৬৭ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৮০ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ২৩ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ২২০ দশমিক শূন্য ৮ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ২১৯ দশমিক ১০ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ২৩ দশমিক ২৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৮৯ দশমিক ২৬ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৩৪৪ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্টে, ১১ হাজার ১৮৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৮৬ দশমিক ৬৩ পয়েন্টে।

সিএসইতে প্রিমিয়ার সিমেন্টের শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। সিএসইতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট ২ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ১ কোটি ১ লাখ টাকা, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স ৭৬ লাখ টাকা, গোল্ডেন হারভেস্ট ৭৩ লাখ টাকা, এমজেএল বিডি ৬৭ লাখ টাকা, স্কয়ার ফার্মা ৫১ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ৫১ লাখ টাকা এবং রবি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

মন্তব্য করুন






আর্কাইভ