ইনগ্রাম-ঝড় থামিয়ে প্লে-অফে বরিশাল, সিলেটের বিদায়

১৫তম ওভারে নাজমুল হোসেনকে বোলিংয়ে আনলেন ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ৩৬ বলে সিলেট সানরাইজার্সের দরকার ৭১ রান, বাকি ৭ উইকেট। ৪৫ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত কলিন ইনগ্রাম।

ম্যাচটা তখনো সিলেটের নাগালের বাইরে চলে যায়নি। ঠিক ওই সময় পরপর দুই বলে নাজমুলের জোড়া আঘাত—ইনগ্রামের পর ফেরালেন মিজানুর রহমানকেও। হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নাজমুলকে পরে আর বোলিংয়ে আনলেন না সাকিব, তাঁর কাজটা যে হয়ে গেছে!

শেষ পর্যন্ত জিতল বরিশালই। সিলেটকে ১২ রানে হারিয়ে সবার আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করল সাকিবের দল। ১৯৯ রান তাড়া করতে নেমে ইনগ্রাম-ঝড়ের পর শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন ও আলাউদ্দিন বাবুর ইনিংস সিলেটকে পাহাড় ডিঙানোর আশা দেখিয়েছিল, কিন্তু ওই পর্যন্তই।

বরিশালের প্লে-অফ নিশ্চিত হওয়ার দিনে সবার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে রবি বোপারার দল। ৮ ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট সিলেটের, শেষ ২ ম্যাচ তাদের জন্য এখন শুধুই নিয়ম রক্ষার।

টসে জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন সিলেট অধিনায়ক বোপারা। কিন্তু টস জয় ম্যাচে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। শুরুতে মুনিম শাহরিয়ার, মাঝে সাকিব আল হাসান, শেষে ডোয়াইন ব্রাভোর ঝোড়ো ইনিংস বরিশালকে এনে দিয়েছে বড় সংগ্রহ।

পুরো ২০ ওভার খেলেছেন ক্রিস গেইল, তবে ৪৫ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ওপেনার। একদিক আগলে রেখে বাকিদের ঝড় তোলার সুযোগ করে দেওয়া—এ দিন গেইলের ভূমিকা ছিল এমনই।;

ইনিংসের প্রথম বলেই সোহাগ গাজী পেতে পারতেন মুনিমের উইকেট, স্লিপে মোহাম্মদ মিঠুন নিতে পারেননি ক্যাচটা। শেষ পর্যন্ত সে শটে চার পেয়েছেন মুনিম, এরপর আর সুযোগ দেননি সেভাবে। সেই ওভারে উঠেছে ১৭ রান।

পাওয়ারপ্লে–তেই বরিশাল তুলেছে ৬৭ রান। মুনিম অর্ধশতক পেয়েছেন সোহাগকে চার মেরে, মাত্র ২৬ বলে। এর পরপরই অবশ্য সোহাগের বলেই ফিরতে হয়েছে তাঁকে। ২৮ বলে ৫১ রানের ইনিংসে এ ডানহাতি মেরেছেন ৬টি চার ও ৩টি ছয়।

তিনে নুরুল হাসানকে পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু গত ম্যাচে বোলিং না পাওয়া নাজমুল ইসলামের বলে বোল্ড হওয়ার আগে তিনি করেছেন ৪ বলে ২ রান। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে একটু চাপে পড়া বরিশালকে সেসব বুঝতে দেননি সাকিব। নিজের খেলা অষ্টম বলে মেরেছেন প্রথম বাউন্ডারি, এরপর খেলেছেন ‘র‍্যাপিড-ফায়ার’ গতিতে। ওই ওভারে সোহাগকে দুটি ছক্কা মেরেছেন, পরের ওভারে মোসাদ্দেককে আরেকটি।

আলাউদ্দিনকে তুলে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেওয়ার আগে সাকিব ১৯ বলে ৩৮ রান করেছেন ২ চার ও ৪ ছয়ে। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এর চেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেটে এত রানের ইনিংস সাকিব খেলেছেন আর মাত্র চারটি।

মুনিম-সাকিবের ঝড়, ওদিকে অপরাজিত গেইলে শক্ত ভিত পায় বরিশাল। কিন্তু এরপর শুরুতে একটা ছয় মারা তৌহিদ হৃদয় এ কে এস স্বাধীনের বেশ বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে কট-বিহাইন্ড হয়ে যান ১১ বলে ১০ রান করে।

ব্রাভো ও গেইল এরপর একটু চুপচাপই ছিলেন, চড়াও হয়েছেন শেষ ২ ওভারে। ১৩ বলে ৩৪ রানের ইনিংসে ৪টি ছয় মেরেছেন ব্রাভো, এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৮৮তম অর্ধশতকটি পেয়েছেন গেইল। শেষ ২ ওভারে বরিশাল তোলে ৩৪ রান।

মন্তব্য করুন






আর্কাইভ