ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুঁজিবাজার

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল সোমবার লেনদেন বেড়ে ৮শ;কোটি টাকার ঘরে অবস্থান করেছে। সব ধরনের সূচকের উত্থান হয়। অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) লেনদেন বেড়েছে। সব ধরনের সূচক উত্থান হয়। তবে ডিএসইর বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হলেও সিএসইর উত্থান হয়।

রেগুলেটরদের বিভিন্ন উন্নয়ন পরও দীর্ঘ সময় পুঁজিবাজার পতনের কবলে। সেই পতন দিন দিন বাড়ছিলো। পতনে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী পুঁজি হারিয়ে নীরবে কেঁদেছে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিভিন্ন মহলের চেষ্টায় পুঁজিবাজার উত্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার আগারগাওয়ে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, সবাই ধৈর্য ধরুন,পুঁজিবাজার আগামী সপ্তাহে ভালো হবে। শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের এমন আশ্বাসের ঠিক পরের কার্যদিবস গত রবিবার সত্যিই ঘুরে দাঁড়ালো পুঁজিবাজার। সেই উত্থান গতকাল সোমবারও ছিল।

পুঁজিবাজারে (ডিএসই ও সিএসই) এদিন ৪৭ দশমিক ৩২ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং সিএসইর ৫১ দশমিক ৪০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়। এদিন পুঁজিবাজারে ৪৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং সিএসইর ৪৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এই ধরনের বাড়া-কমা স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

ডিএসইতে গতকাল রবিবার লেনদেন হয়েছে ৮৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার। গত রবিবার লেনদেন হয়েছিল ৮৩৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৭টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৬৩টির, কমেছে ১৭৯টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৫টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৯ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৩৫০ দশমিক ৮০ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪০১ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে।

ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৬৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এদিন বিডি ফাইন্যান্স ২৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মা ২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা, জিএসপি ফাইন্যান্স ২২ কোটি ৩ লাখ টাকা, জেনেক্স ২১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ১৮ ১৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং আইএফআইসি ১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

অপরদিকে, চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) এদিন লেনদেন হয়েছে ৩০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। গত রবিবার লেনদেন হয়েছিল ২১ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৬টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ১১৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৪৫টির। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫৪ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭০২ দশমিক ৭৮ পয়েন্টে।

এছাড়া সিএসই-৫০ সূচক ৩ দশমিক ২১ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৬৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট, সিএসসিএক্স সূচক ৩১ দশমিক ৩০ পয়েন্ট এবং সিএসআই সূচক ১ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৩৯২ দশমিক ৪৭ পয়েন্টে, ১৩ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৪৮ পয়েন্টে, ১১ হাজার ২১৭ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ১৮৭ দশমিক ৯৭ পয়েন্টে।

সিএসইতে বেক্সিমকো শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে কোম্পানিটির শেয়ার স্থান পায়। এদিন সিএসইতে প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে জিএসপি ফাইন্যান্স ১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, লিন্ডে বিডি ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ফার্মা ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা, আইএফআইসি ৯৯ লাখ টাকা, জেএমআই হসপিটাল ৯৬ লাখ টাকা, প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৭৯ লাখ টাকা, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৭৬ লাখ টাকা, কেয়া কসমেটিকস ৫৯ লাখ টাকা এবং শাইনপুকুর সিরামিকস ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়।

মন্তব্য করুন






আর্কাইভ