জ্বালানি তেলের দাম ফের বাড়ছে

বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর;ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বর্তমান সংকট সাময়িক বলে মন্তব্য করে তিনি গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হতে জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।

নসরুল হামিদ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমরা ছয়–সাত মাস ধরে তেলের মূল্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করছি। যে তেল আমরা ৭০ থেকে ৭১ ডলারে কিনতাম, এখন তা ১৭১ ডলার হয়ে গেছে।;সেটা সব সময় বাড়তির দিকেই যাচ্ছে। আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি যে আমরা তেলের প্রাইসটাকে অ্যাডজাস্টমেন্টে যাব। কিন্তু আমাদের নিজস্ব অর্থে আমরা এই ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু তারপরও আমাদের মনে হয়, আমাদের একটা সময়ে প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্টে (মূল্য সমন্বয়) যেতে হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারো ঊর্ধ্বমুখী। এক মাসের ব্যবধানে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি গড়ে প্রায় ১৬ ডলার বেড়েছে। এ অবস্থায় দেশের বাজারে ডিজেল-অকটেন বিক্রিতে লোকসান গুনতে হিমশিম খাচ্ছে;বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বর্তমানে এ দুটি পণ্য বিক্রিতে দৈনিক লোকসান ১০৭ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এ অবস্থায় আবারো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জ্বালানি বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে।

বিপিসি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে ১২১-১২৫ ডলারে ওঠানামা করছে। এ পরিস্থিতিতে কেবল ডিজেল-অকটেন বিক্রিতেই লিটারপ্রতি দৈনিক ৯৭ টাকা লোকসান করছে বিপিসি। সব মিলিয়ে দেশের জ্বালানি তেল বিক্রিতে সংস্থাটির দৈনিক লোকসানের পরিমাণ ১০৭ কোটি টাকার বেশি। দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দামে সমন্বয় করা না হলে অব্যাহত এ লোকসান পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে মনে করছেন বিপিসি সংশ্লিষ্টরা।

তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মানুষ যখন তীব্র মূল্যস্ফীতির সঙ্গে টিকে থাকার সংগ্রাম করছে, তখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে আবারও বাড়বে পরিবহণ ব্যয়। এর প্রভাব সব নিত্যপণ্যের দামের ওপরও পড়বে। এদিকে বিদ্যুৎ ভবনের বৈঠকে কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ছাড়া তাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই।

জ্বালানি তেলের দাম ১০, ২০ অথবা ৩০ টাকা বাড়ানো হলে পরিবহন খরচ কত বাড়তে পারে, বৈঠকে এ সংশ্লিষ্ট একটি বর্ণনা উপস্থাপন করা হয়। গত নভেম্বরে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর ফলে সরকার কত টাকা দাম বৃদ্ধি করেছিল, তার ওপর ভিত্তি করে এই প্রাক্কলন করা হয়। ওই উপস্থাপন বলছে, যদি ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়ানো হয়, তাহলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে স্বল্প দূরত্বের বাস ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ১৫ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা হবে। দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে বেড়ে ১ টাকা ৮৯ পয়সা হবে। একইভাবে, ডিজেলের দাম ২০ ও ৩০ টাকা বাড়ানো হলে পরিবহণ খরচ প্রতি কিলোমিটারে যথাক্রমে ১৬ পয়সা ও ২৪ পয়সা করে বাড়বে।

মন্তব্য করুন






আর্কাইভ