রাত পোহালেই ই-ক্যাব নির্বাচন

ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন আজ (শনিবার)। এদিন ধানমন্ডি ৯ নম্বর সড়কের সাইয়্যেদানা কমিউনিটি সেন্টারে ই-ক্যাবের ভোট অনুষ্ঠিত হবে। দুই বছরের জন্য ই-কমার্স খাতের নেতৃত্ব দিতে অগ্রগামী, দ্য চেঞ্জ মেকারস ও ঐক্য নামে তিনটি প্যানেলে ২৭ জনসহ মোট ৩১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ই-ক্যাবের ৭৯৫ ভোটারের ভোট পেতে প্রার্থীরা লড়বেন ৯টি পদের বিপরীতে।

গত বছর বিতর্কিত কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে খাতটিতে যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে উত্তরণ, ই-কমার্সের উন্নয়ন, উদ্যোক্তাদের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রার্থীরা। তবে সব প্যানেলেরই লক্ষ্য ই-কমার্স-বান্ধব পরিবেশ তৈরি ও ই-কমার্সে আস্থার সংকট দূর করা। শেষ সময়ে প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। ফোন দিয়ে, ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে ভোট চাইছেন তারা। নিজেদের ফেসবুকেও দিচ্ছেন নানান ধরনের পোস্ট।

গত ২ জুন নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে অগ্রগামী প্যানেল। এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন- ধানসিঁড়ি ডিজিটাল লিমিটেডের শমী কায়সার, কমজগৎ টেকনোলজিসের মোহাম্মাদ আবদুল ওয়াহেদ, ডায়াবেটিস স্টোর লিমিটেডের মোহাম্মাদ সাহাব উদ্দিন, রেভারি করপোরেশন লিমিটেডের নাসিমা আক্তার, ব্রেকবাইটের আসিফ আহনাফ, ডিজিটাল হাব সলিউশনস লিমিটেডের মোহাম্মাদ সাইদুর রহমান, ফোকাস ফ্রেমের মো. রুহুল কুদ্দুস, পেপারফ্লাই প্রাইভেট লিমিটেডের শাহরিয়ার হাসান ও ফুডপান্ডা বাংলাদেশ লিমিটেডের সৈয়দা আম্বারীন রেজা। প্যানেলটির বেশিরভাগ সদস্যই গত কমিটিতে ছিলেন।

ইশতেহারে তারা ই-ক্যাবের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, উদ্যোক্তাবান্ধব নীতি তৈরির জন্য সরকারকে সহযোগিতা, নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে বিনিয়োগ ও পরামর্শসেবা সহ ৭টি বিষয়ে অগ্রধিকার দিয়েছেন। এই প্যানেলের প্রার্থী এবং উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরামের (উই) প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আক্তার নিশা বলেন, আমরা নারী উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দেশীয় উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করবো। তাদের পণ্য রপ্তানীমুখী করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবো। আগামী দুই বছরে দেশি ই-কমার্সকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতেও কাজ করবো।

অন্যদিকে দ্য চেঞ্জ মেকার্স প্যানেলের সদস্যরা হচ্ছেন—সিপরোকো কম্পিউটারস লিমিটেডের শাফকাত হায়দার, বাংলামেডস ফার্মেসি লিমিটেডের ওয়াসিম আলিম, ক্লিনফোর্স লিমিটেডের মো. তাসদীখ হাবীব, আরটিএস এন্টারপ্রাইজের জিসান কিংশুক হক, কিনলে ডটকমের মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, নিজল ক্রিয়েটিভের আবু সুফিয়ান, ই-কুরিয়ার লিমিটেডের বিপ্লব ঘোষ, সেবা ডট এক্সওয়াইজেডের মো. ইলমুল হক এবং হুর নুসরাতের নুসরাত লোপা। তাদের ইশতেহারের মধ্যে রয়েছে- অত্যাধুনিক সুবিধাসহ সদস্যদের জন্য নিজস্ব অফিস করা, সচিবালয়কে শক্তিশালী করতে ২০২৩ সালের মধ্যে একজন নির্বাহী পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া, সদস্যদের আর্থিক সংস্থানের জন্য কমপক্ষে ছয়টি ব্যাংক থেকে জামানতবিহীন ঋণ বা বিনিয়োগের ব্যবস্থা করা, ইক্যুইটি ফাইন্যান্সিং নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করা, ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন, বছর শেষে একটি ই-কমার্স এক্সপো করা, ৫০+ সদস্য হলে জেলা উইং খোলা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, কমপক্ষে ৮০% সদস্যকে সক্রিয় করে তোলা।

নিজেদের কাজের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্যানেলের সদস্য ই-কুরিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা বিপ্লব ঘোষ রাহুল বলেন, আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ে দ্রততম সময়ে ই-কমার্সের সেবা পৌঁছে দিতে অবকাঠামো নির্মাণ ও পলিসি নির্ধারণে ই-ক্যাবের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে চাই। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তার কাছে এই বার্তা দিতে চাই যে দেশের ই-কমার্স খাত নিরাপদ। খাত সংক্রান্ত করনীতি বাস্তবায়ন ও প্রণয়ণে শক্তিশালী অবস্থান নিতে চাই।

এছাড়া ঐক্য প্যানেলের ইশতেহারে ই-কমার্সের বাজার সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, ই-কমার্সবান্ধব বাজেট ও নীতি প্রণয়নে জোরালো ভূমিকা রাখা, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের জন্য কল সেন্টার চালু, বিদেশে ই-কমার্সের বাজার সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে। এই প্যানেলের সদস্যরা হলেন—যাচাই ডটকম লিমিটেডের আবদুল আজিজ, মেনসেন মিডিয়ার তৌহিদা হায়দার, স্কুপ ইনফোটেক লিমিটেডের আরিফ মোহাম্মদ আবদুস শাকুর চৌধুরী, পরান বাজারের মো. আরিফুল ইসলাম, এস এম ইন্টারন্যাশনালের মো. ছোফায়েত মাহমুদ, ক্রাফটস ম্যান সল্যুশনের মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম, র্যাপিডো ডেলিভারিসের সামদানী তাব্রীজ, আই এক্সপ্রেস লিমিটেডের মো. তাজুল ইসলাম এবং নুরতাজ বাংলাদেশ লিমিটেডের মো. সেলিম শেখ। ঐক্য প্যানেলের সদস্য আবদুল আজিজ বলেন, ই–ক্যাবকে সদস্যবান্ধব সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সংগঠনটির জন্য স্থায়ী কার্যালয় চালুর উদ্যোগে নেওয়া হবে। এছাড়া ই-কমার্সবান্ধব আইন, বাজেট ও নীতি প্রণয়নে জোরালো ভূমিকা রাখতে চাই।

তিন প্যানেলের ২৭ প্রার্থীর বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আদি বিডি লিমিটেডের ফাতিমা বেগম, বিডি এক্সক্লুসিভের মুহাম্মাদ ইসমাইল হুসাইন, যাচাই লিমিটেডের মাফিয়া নাহিদ এবং পাবলিক্স মেট্রো লিমিটেডের মো. আবদুল আলিম। এই নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আমিন হেলালী। অন্য সদস্যরা হলেন- মো. আবদুর রাজ্জাক, এ এইচ এম বজলুর রহমান ও আবদুল আজিজ।;

মন্তব্য করুন






আর্কাইভ