লুজারে শতভাগ ভাল কোম্পানির দাপট

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে (রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার) লেনদেন পরিমাণ আগের সপ্তাহ তুলনায় কমেছে। আগের সপ্তাহের তুলনায় গেল সপ্তাহে লেনদেন পরিমাণ কমেছে। এসময় পতন হয় সব ধরনের সূচক। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর। সপ্তাহটিতে ক্রেতার সংকটের কারণে শেয়ার বিক্রয়ের চাপ বাড়ে। গেল সপ্তাহে টপটেন লুজারে শতভাগ ও লেনদেনে ৬০ ভাগ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার দর ওঠে এসেছে। তবে টপটেন গেইনারে ৩০ ভাগ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার দর ওঠে এসেছে। অপরদিক টপটেন গেইনারে ৬০ ভাগ ও লেনদেনে ৩০ ভাগ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার দর ওঠে এসেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসইর সূত্রে জানা যায়, গেল সপ্তাহে ‘বি’ ক্যাটাগরি ৩০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার টপটেন লেনদেনে অবস্থান করেছে। অপরদিকে লেনদেনে ‘এ’ ক্যাটাগরির ৬০ শতাংশ এবং ‘এন’ ক্যাটাগরির ১০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার অবস্থান করেছে। সপ্তাহটিতে সেকেন্ড ক্যাটাগরির ৬০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার টপটেন গেইনারে অবস্থান করেছে। এর মধ্যে ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানির মেঘনা ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর টপটেন গেইনারের শীর্ষে ওঠে এসেছে। অপরদিক ‘এ’ ক্যাটাগরির ৩০ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর টপটেন গেইনারে অবস্থান করেছে। সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির শতভাগ কোম্পানির শেয়ার দর টপটেন লুজারে অবস্থান করেছে।

গেল সপ্তাহে ডিএসইতে ‘বি’ ক্যাটাগরির শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ার টপটেন লেনদেনের শীর্ষে ওঠে এসেছে। সপ্তাহটিতে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ২২ দশমিক ৩৮ শতাংশ। কোম্পানিতে ২৩৬ কোটি ৯ লাখ ১৯ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ৫০ দশমিক ৩০ টাকায়। আগে সপ্তাহে শেষ কার্যদিবস শেয়ার প্রতি দর ছিল ৪১ দশমিক ১০ টাকা। এই সময়ের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। কারণবিহীন শাইনপুর সিরামিকসের শেয়ার দর এভাবে বাড়াকে বাঁকা চোখে দেখছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা বলছেন, গেল সপ্তাহে লেনদেন পরিমান কমেছে। এসময় শেয়ার ক্রয়ের চেয়ে বিক্রয় বেশি হয়। তবে গেল সপ্তাহে সব ধরনের সূচক পতন হয়। দুই-তৃতীয়াংশ কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে। এই অবস্থায় এমন কি হলো, হঠাৎ করেই সেকেন্ট ক্যাটাগরির শাইনপুকুরের শেয়ার দর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। তাও সপ্তাহ ব্যবধানে বেড়েছে ২২ শতাংশ। বিযয়টি নিয়ে রেগুলেটরদের বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। শেয়ারটির দর কেন বাড়ছে বা বাড়ানোর পেছনে কেউ জড়িত থাকলে তাদের চিহিৃত করার অনুরোধ করেন সংশ্লিষ্টররা।


উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারের ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার ‘বি’ ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির থেকে তুলনামূলক ভালো কোম্পানি। নিয়ম অনুসারে, যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ থেকে তার ঊর্ধ্বে লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নিচে থেকে শুরু করে সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারা ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার। যেসব কোম্পানি বছর শেষে তাদের শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ নিচে থেকে শুরু জিরো লভ্যাংশ (নগদ বা বোনাস) দেয় তারাই ‘জেড’ ক্যাটাগরি কোম্পানির শেয়ার। এছাড়া এন ক্যাটাগরি নতুন কোম্পানির শেয়ার। যেগুলোর পুঁজিবাজারের লেনদেন শুরু হয়েছে কিন্তু বছর পার হয়নি, সেইগুলো ‘এন’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে।

সপ্তাহটিতে সেকেন্ট ক্যাটাগরির (‘বি’ ক্যাটাগরি) কোম্পানির শেয়ার টপটেন গেইনারে কদর বেশি ছিল। তবে ‘এন’ ক্যাটাগরির মেঘনা ইন্স্যুরেন্স শেয়ার দর টপটেন গেইনারের শীর্ষে ওঠে এসেছে। সপ্তাহটিতে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৫৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। কোম্পানিটি একাই ১ লাখ ২৬ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। গেইনারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুন্নু ফেব্রিক্স (‘বি’ ক্যাটাগরি) ৪১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, শাইনপুকুর (‘বি’ ক্যাটাগরি) ২২ দশমিক ৩৮ শতাংশ, এইচ আর টেক্সটাইল (‘এ’ ক্যাটাগরি) ১৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, মিরাকেল (‘বি’ ক্যাটাগরি) ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, তসরিফা (‘বি’ ক্যাটাগরি) ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ, হাক্কানি পাল্প (‘বি’ ক্যাটাগরি) ১২ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ, এস আলম কোল্ড (‘এ’ ক্যাটাগরি) ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ, খান ব্রাদাস (‘বি’ ক্যাটাগরি) ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং সুহৃদ (‘এ’ ক্যাটাগরি) ১০ দশমিক ৬৬ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।

অপরদিকে, সপ্তাহটিতে ভালো ক্যাটাগরির (‘এ’ ক্যাটাগরি) কোম্পানির শেয়ার টপটেন লুজারে কদর বেশি ছিল। লুজারে শতভাগ ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানির শেয়ার অবস্থান করে। গেল সপ্তাহে ‘এ’ ক্যাটাগরির বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স শেয়ার দর টপটেন লুজারের শীর্ষে ওঠে এসেছে। সপ্তাহটিতে কোম্পানিটির শেয়ার দর কমেছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। কোম্পানিটি একাই ১ কোটি ২৪ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়। লুজারে উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে রেইনউইক যজ্ঞেশ্বর ৯ দশমিক শূন্য ৪ লাখ টাকা, রুপালি ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৯৭ লাখ টাকা, গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, ফনিক্স ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স ৮ দশমিক ৬১ শতাংশ, পেপার প্রেসেসিং ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং দেশ গামেন্স ইন্স্যুরেন্স ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।

মন্তব্য করুন






আর্কাইভ