১৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০০ এ.এম

মিরাজের জায়গায় থাকলে নাকি ‘ভিন্নভাবে ভাবতেন’ সালমান

মিরাজের জায়গায়  থাকলে নাকি ‘ভিন্নভাবে ভাবতেন’ সালমান

মিরপুরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচে এক অদ্ভুত রানআউটকে ঘিরে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা। নিজের ভুলে রানআউট হওয়ার পর পাকিস্তানের ব্যাটার সালমান আলি আঘা ক্ষোভে হেলমেট ছুঁড়ে মারেন এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। পরে তিনি বলেন, ঘটনাটি ছিল ‘মুহূর্তের উত্তেজনায়’ ঘটে যাওয়া।

মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩৯তম ওভারে এই রানআউটের ঘটনাকে ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

ওই ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ান স্ট্রেইট ড্রাইভ খেললে বল থামানোর চেষ্টা করেন বোলার মেহেদী হাসান মিরাজ। তখন সালমান আঘা ক্রিজের বাইরে সামনে অবস্থান করছিলেন। বোঝা যাচ্ছিল, মিরাজ বল আটকাতে না পারলে তিনি দৌড়ে রান নেওয়ার চেষ্টা করবেন। সংঘর্ষের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও মিরাজ বল থামাতে সক্ষম হন। পরে সালমানের পায়ের কাছে থাকা বল তুলে স্টাম্পে ছুঁড়ে মারেন তিনি। এ সময় সালমানও বলটি ধরতে চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু তিনি ক্রিজের অনেক বাইরে থাকায় আম্পায়ার স্বাভাবিকভাবেই তাকে আউট ঘোষণা করেন। সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে আঘা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। হেলমেট ছুঁড়ে মারেন এবং চিৎকার করে গালিগালাজ করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় বাংলাদেশের লিটন কুমার দাসের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ও হয়।

ঘটনাটি নিয়ে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সালমান বলেন, “এরপর কী হয়েছে তা আমি আপনাদের বলতে পারি। আমি নিশ্চিত সবাই তা দেখেছে, তবে এটি ছিল স্রেফ মুহূর্তের উত্তেজনা। আপনি যদি আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কী করতাম, তবে আমি বলব আমি এটি ভিন্নভাবে সামলাতাম। তবে পরে যা কিছু ঘটেছে তা ছিল স্রেফ উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে।”

রানআউট প্রসঙ্গে খেলোয়াড়ি মানসিকতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেখুন, এটি নিয়মের মধ্যেই আছে। আমি এমন একজন যে সব সময় নিয়ম মেনে চলতে চাই, কিন্তু যখন খেলোয়াড়ি মনোভাবের কথা আসে, তখন আমার মনে হয় পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, সেটিকে আরও উপরে রাখা উচিত। নিয়মের মধ্যে থেকে তিনি যা করেছেন, তা যদি তিনি ঠিক মনে করেন তবে সেটি তার পছন্দ। কিন্তু আপনি যদি আমার দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চান, আমি ভিন্নভাবে কাজ করতাম; আমি খেলোয়াড়ি মনোভাবের পক্ষেই থাকতাম।”

লিটনের সঙ্গে কথোপকথন নিয়ে তিনি বলেন, “আমি কী বলছিলাম তা মনে করতে পারছি না, আর তিনি কী বলছিলেন তাও মনে নেই। আমি নিশ্চিত আমি ভালো কিছু বলিনি, আর তিনিও নিশ্চিতভাবে ভালো কিছু বলেননি। তবে এটি ছিল স্রেফ মুহূর্তের উত্তেজনা। আমরা ঠিক আছি।”

মিরাজের সঙ্গে বিষয়টি মিটে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আঘা। তিনি বলেন, “আমি এখনও [মিরাজের সঙ্গে] কথা বলিনি, তবে আমরা কথা বলব। দুশ্চিন্তা করবেন না, আমরা ঠিক আছি।”

এই ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশের পাকিস্তানি স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদ বলেন, “ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পারিনি কী হয়েছে। মিরাজ ভেবেছিলেন ব্যাটার ক্রিজের বাইরে আছেন এবং তিনি বল থামানোর চেষ্টা করছিলেন। মনে হচ্ছে বলটি সরাসরি মিরাজের পায়ের কাছে গিয়েছিল এবং একই সময়ে ব্যাটার বলটি তুলে মিরাজকে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, মিরাজের জন্য বলটি তুলে রান-আউটের চেষ্টা করা ছিল স্রেফ একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, কারণ ব্যাটার ক্রিজের বাইরে ছিলেন। আমি বিশ্বাস করি না কোনো পক্ষই ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেছে; ব্যাটার সাহায্য করার চেষ্টা করছিলেন আর মিরাজ খেলার প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন এবং রান-আউটের একটি সুযোগ দেখেছিলেন।”

এদিকে মিরপুরে রানআউট বিতর্কে আলোচিত ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের কাছে ১২৮ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে সিরিজে এখন ১-১ সমতা বিরাজ করছে।