৩১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৫ পি.এম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি চালু করছে সরকার

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্লেন্ডেড শিক্ষা পদ্ধতি চালু করছে সরকার

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় মহানগর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে (বিশ্ববিদ্যালয় বাদে) আবারও অনলাইন ক্লাস চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। তবে এবার পুরোপুরি অনলাইন নয়, বরং অনলাইন ও সশরীরে পাঠদানের সমন্বয়ে ‘ব্লেন্ডেড’ বা মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।

ব্লেন্ডেড লার্নিং পদ্ধতিতে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিক্ষা কার্যক্রম একসঙ্গে পরিচালিত হয়। এ ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা আংশিক সময় শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে এবং বাকি সময় অনলাইনে পাঠ গ্রহণ করবে।

সভায় প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তাব উঠে আসে। পাশাপাশি জোড়-বিজোড় দিনের ভিত্তিতে ক্লাস ভাগ করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করবেন এবং ব্যবহারিক ক্লাসগুলো সশরীরে অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে অনলাইন ক্লাস চালু করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার আরও সমন্বিত পদ্ধতিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার চিন্তা করছে সরকার।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা অনিশ্চিত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে মিশ্র শিক্ষা পদ্ধতি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। তাই আমরা ভাবছি অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে ক্লাস পরিচালনা করা যায় কি না। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।’

তিনি আরও জানান, একটি জরিপে প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষ আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে পুরোপুরি অনলাইন চালু হলে সামাজিক মিথস্ক্রিয়া কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, সভায় সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং শিক্ষকরা এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন।