১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০ পি.এম

দেশে হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ৭৩ শতাংশ

দেশে হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি ৭৩ শতাংশ

দেশের স্বাস্থ্য খাতে গত কয়েক মাস ধরে হামের টিকার তীব্র সংকট বিরাজ করছে। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে এই টিকার সরবরাহ ঘাটতি রেকর্ড ৭৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। নতুন প্রকল্প গ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন ও অর্থ ছাড় সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সময়মতো টিকা সংগ্রহ করতে না পারায় এই নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত এই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে অর্ধশতাধিক শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে, যদিও হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধি। জাতীয়ভাবে শিশুদের যেসব রোগের প্রতিষেধক দেওয়া হয়, তার মধ্যে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধের এমআর টিকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। তবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৬৪ জেলায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহের চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তথ্যমতে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪১০ ভায়াল এমআর টিকার প্রয়োজন থাকলেও সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪৫০ ভায়াল। অর্থাৎ চাহিদার মাত্র ২৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ মেটানো গেছে, যা মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে শিশুদের মধ্যে হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। কেবল এমআর টিকাই নয়, পেন্টাভ্যালেন্ট, পোলিও এবং বিসিজিসহ অন্যান্য নিয়মিত টিকার ক্ষেত্রেও সরবরাহে ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। ইপিআইয়ের দেওয়া তথ্য বলছে, সংশ্লিষ্ট সময়ে অন্যান্য টিকার মোট চাহিদা ৫১ লাখ ভায়ালের বেশি থাকলেও জোগান দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ভায়ালের মতো।

এই সংকটের মূলে রয়েছে প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তন। স্বাস্থ্য খাতের অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের প্রক্রিয়াই এই জটিলতার প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতদিন চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচির অধীনে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ২০২৪ সালের জুনে এর মেয়াদ শেষ হয়। এরপর নতুন কোনো কৌশলগত পরিকল্পনা অনুমোদন না হওয়ায় এবং রাজস্ব খাতের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দ ও কেনাকাটায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। বিগত বছরের মজুদ দিয়ে জুন পর্যন্ত কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলেও অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হওয়ায় বর্তমানে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। সরকার অবশ্য এই সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।