আগামী বছর থেকে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার শূন্য থাকবে, সেগুলোর এমপিও (মাসিক পেমেন্ট অর্ডার) সুবিধা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর বার্তার কথা জানান। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী তার বক্তব্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, চলতি বছরে যেসব প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে এখনই চূড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবে এমপিও বাতিল করা হচ্ছে না। তবে ২০২৭ সাল থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো হবে না এবং নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সক্ষমতা কম, ক্যামেরা স্থাপনে তাদের প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে। নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও যেন সিসিটিভি সচল থাকে, সে লক্ষে আইপিএস ব্যবস্থা রাখার তাগিদ দেন তিনি।
প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে মন্ত্রী বলেন, কোনো কেন্দ্রে নকলের ঘটনা প্রমাণিত হলে তার জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবকে সরাসরি দায়ী করা হবে। কোচিং সেন্টারের ওপর শিক্ষার্থীদের নির্ভরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেবল আইন দিয়ে নয় বরং শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই কোচিং সংস্কৃতি বন্ধ করা হবে। মেধাভিত্তিক ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করার ওপর জোর দেন শিক্ষামন্ত্রী।