রোববার সকাল ১১টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে হামের যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা করোনাভাইরাস মহামারির চেয়েও কম উদ্বেগজনক নয়। তিনি জানান, যেসব এলাকায় সংক্রমণ বেশি, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আজ থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশালে এই কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। এরপর ৩ মে থেকে সারাদেশে একযোগে এই টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হবে।
প্রথম ধাপে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, বর্তমানে আক্রান্তদের প্রায় ৮২ শতাংশই এই বয়সসীমার শিশু। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এই গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, হামের টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং এতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা নেই। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে এবং কোনো শিশু আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে।
সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, প্রতি চার বছর অন্তর হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি থাকার কথা থাকলেও বিগত সরকারের অবহেলার কারণে ২০২০ সালের পর তা যথাযথভাবে চালু হয়নি। তাঁর দাবি, এ অবহেলার কারণে দেশে শিশুস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, সময়মতো টিকাদান না হওয়ায় কিছু শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের ব্যর্থতার ফল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শিশুস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ এবং ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় জোরদার করা সম্ভব হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, হাম-রুবেলার মতো রোগ যাতে বাংলাদেশে মারাত্মক আকার ধারণ করতে না পারে, সে জন্য সরকার সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা। এতে আরও বক্তব্য দেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ারস, আহমেদ জমসেদ হাসান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রভাত চন্দ্র চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রহমান এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।