বিসিবির সভাপতির পদ থেকে আমিনুল ইসলাম বুলবুল অপসারিত হওয়ার পর শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসানো হয়েছে দেশের সফলতম ওপেনারদের একজন তামিম ইকবালকে। সংকটময় এই সময়ে বোর্ড পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তামিম নিজেই।
এই বড় ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা নানা অভিযোগ। গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তামিম ও তার ঘনিষ্ঠ মহল। অভিযোগের ভিত্তিতে অনিয়ম তদন্তে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন কমিটি গঠন করে।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটির হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১৫ হাজারের বেশি রান করা সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের ওপর এখন দেশের ক্রিকেট সংস্কারের বড় দায়িত্ব এসে পড়েছে।
নতুন এই ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি ঘিরে ইতোমধ্যে ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে একদিকে যেমন অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয় রয়েছে, তেমনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বও বেশ লক্ষণীয়। একইসঙ্গে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
কমিটির পাঁচ সদস্য—তামিম ইকবাল, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও সালমান ইস্পাহানি—চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করছেন। পাশাপাশি রাশনা ইমাম, যিনি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী, তিনিও কমিটিতে রয়েছেন।
এছাড়া রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও যুক্ত হয়েছেন নতুন এই কাঠামোয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে ইসরাফিল খসরু।
কমিটিতে ক্রিকেটীয় অভিজ্ঞতা যোগ করতে রাখা হয়েছে সাবেক অধিনায়ক ও সদ্য বিদায়ী বোর্ডের হেড অব প্রোগ্রাম মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খানকে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সংগঠকদের মধ্যে রয়েছেন প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান তানজিল চৌধুরী এবং ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান সালমান ইস্পাহানি।
প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সাবেক পরিচালক রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন এই কমিটির দিকে—কীভাবে তারা ক্রিকেটে সংস্কারের নতুন অধ্যায় শুরু করে।