১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৫ পি.এম

হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান

হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধের ঘোষণা দিল ইরান

বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবারও সেখানে অবরোধ জারি করেছে ইরান। শনিবার ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি, ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আবারও সামরিক বাহিনীর হাতে ফিরে এসেছে এবং আগের মতোই তারা পুরো নৌপথের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করবে।

যদিও এর আগে কিছু বিদেশি জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে, বর্তমানে সেখানে ঠিক কতটা জাহাজ চলাচল হচ্ছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

আইআরজিসির বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘দস্যুতা’র অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রকৃতপক্ষে সামুদ্রিক ডাকাতির শামিল। এর আগেও ইরান সতর্ক করে জানিয়েছিল, তাদের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খোলা থাকবে। তবে নিরাপত্তার কারণে জাহাজগুলোকে ইরানের নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করতে হবে।

তবে আরাগচির এ বক্তব্যের পর ট্রুথ সোশ্যালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।

এদিকে ইরানের আকাশসীমা আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে আকাশসীমা ও কয়েকটি বিমানবন্দর চালু করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।

সংস্থাটি আরও জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলের আকাশপথ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ছিল।