২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫১ এ.এম

মেক্সিকোর পিরামিডে কানাডিয়ান দর্শনার্থীকে গুলি করে হত্যা

মেক্সিকোর পিরামিডে কানাডিয়ান দর্শনার্থীকে গুলি করে হত্যা

মেক্সিকোর বিশ্বখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র তেওতিহুয়াকান হঠাৎ রক্তাক্ত—সশস্ত্র হামলায় এক কানাডীয় নারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের আরও কয়েকজন পর্যটক।

সোমবার (২০ এপ্রিল) মেক্সিকোর প্রাচীন পিরামিড নগরী তেওতিহুয়াকানে এ ঘটনা ঘটে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পর বন্দুকধারী নিজেই আত্মহত্যা করে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে ভুক্তভোগীদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘তেওতিহুয়াকানে আজ যা ঘটেছে, তা আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।’

এদিকে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলায় আরও একজন কানাডীয় নাগরিক আহত হয়েছেন এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা তাদের সহায়তায় কাজ করছেন।

মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি ধারালো অস্ত্র এবং গুলি উদ্ধার করেছে। আহতদের মধ্যে কলম্বিয়া, রাশিয়া ও কানাডার নাগরিক রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এক ব্রিটিশ দম্পতি গণমাধ্যমকে জানান, তারা পিরামিডের কাছে ছবি তুলছিলেন, এমন সময় আচমকা গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দম্পতি বলেন, “মানুষ দৌড়াতে শুরু করে, কেউ চিৎকার করে বলছিল ‘ওরা এদিকে আসছে’— এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।”

তাদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগও দেখা যায়নি। এমনকি প্রবেশের সময়ও কোনো ধরনের নিরাপত্তা তল্লাশি করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তেওতিহুয়াকান মেক্সিকোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র। অ্যাজটেক সভ্যতার আগের এই প্রাচীন নগরীর বিশাল পিরামিড বিশ্বজুড়ে পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।

ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র সাত সপ্তাহ। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে। এই আয়োজনকে সামনে রেখে প্রায় ৫৫ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক আগমনের প্রত্যাশা করছে দেশটি।

প্রাথমিকভাবে হামলার সঙ্গে মাদকচক্রের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়েছে মেক্সিকো সরকার।