ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ঝুলে আছে। ইসলামাবাদে নির্ধারিত পরবর্তী দফার সংলাপে অংশগ্রহণের বিষয়ে তেহরানের কাছ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পায়নি পাকিস্তান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, চলমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার রাখার চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের অবস্থানের ওপর। বিশেষ করে দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষের দিকে চলে আসায় তেহরানের অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বার্তাগুলোতে ইঙ্গিত মিলেছে, ইরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। যদিও ইরানি জাহাজ লক্ষ্য করে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তবুও সম্ভাব্য কোনো চুক্তি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার মার্কিন গণমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত এবং আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদ রয়েছে। বিরতির এই সময়টাকে আমরা সরঞ্জাম মজুতের কাজে লাগিয়েছি।’ পাশাপাশি বুধবার শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির সময়সীমা আর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
এই সংকটময় সময়ে উত্তেজনা কমাতে এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষকেই সংলাপে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংলাপের বিকল্প নেই। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সাড়া না আসায় পুরো প্রক্রিয়াই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মঙ্গলবার ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নাতালি বেকারের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন ইসহাক দার। সেখানে তিনি যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়িয়ে শান্তি প্রচেষ্টা চালু রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় কূটনীতি ও সংলাপকেই একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।