২২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০০ এ.এম

বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান

বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ চলাচলের আশ্বাস দিল ইরান

ঢাকা ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ এবং বিচক্ষণ কূটনৈতিক অবস্থানের প্রশংসা করে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির এই আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের এক সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে সুসম্পর্ক রয়েছে, তা আগামীতে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে তেহরান বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার যে নীতি বাংলাদেশ অনুসরণ করে, সেটির প্রতি ইরান তাদের পূর্ণ সমর্থন ও অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে সম্প্রতি আনতালিয়া কূটনীতি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহর মধ্যকার ফলপ্রসূ আলোচনাকে স্বাগত জানানো হয়। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সংলাপ ও কূটনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে ইরান এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।

মানবিক ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ইরানের পক্ষ থেকে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ইরান সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আজারবাইজান হয়ে ১৮৬ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ এবং রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানোর মতো মানবিক প্রচেষ্টার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে দূতাবাস।

তবে এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে কিছু নেতিবাচক প্রবণতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা খণ্ডিত তথ্য প্রচারের বিষয়ে ইরান দূতাবাস সতর্ক অবস্থান ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়েছে। ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস মনে করে, সঠিক তথ্য প্রবাহ এবং গভীর যোগাযোগই পারে বন্ধুত্বের এই ধারাকে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী করতে।