মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গ্রহণযোগ্যতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়াকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েলি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ’ (আইএনএসএস)।
সোমবার প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সমর্থন নিশ্চিত করতে হলে জনমতের এই নেতিবাচক পরিবর্তনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে ইসরায়েল বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক তথ্যের বরাতে আইএনএসএস জানায়, বর্তমানে অন্তত ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক ইসরায়েলকে নেতিবাচক রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করেন, যা গত বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী আমেরিকানদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই এখন ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি মধ্যবয়সী অর্থাৎ ৩০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই হার ৬৭ শতাংশ। রাজনৈতিক বিভাজনে দেখা গেছে, ৮০ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৪১ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করছেন। এমনকি দেশটির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত শ্বেতাঙ্গ ইভানজেলিকাল খ্রিস্টানদের মধ্যে যারা তরুণ, তাদের অর্ধেকই এখন ইসরায়েলের বিপক্ষে।
থিঙ্ক ট্যাঙ্কটি মনে করছে, গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান এবং ইরানের সাথে সংঘাত এই জনমত ধসের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষ ও রাজনীতিবিদদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করেন যে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতেই যুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করছেন। এমনকি মার্কিন ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যেও ইসরায়েলের প্রতি সহানুভূতি হ্রাস পাওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট। এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ মার্কিন ইহুদি এখন শর্তহীন সামরিক ও আর্থিক সহায়তার বিপক্ষে। যদিও মার্কিন সিনেটে অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব পাস হয়েছে, তবে রেকর্ড সংখ্যক ডেমোক্র্যাট সদস্যের বিরোধিতা ইসরায়েলের জন্য এক অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কাতারেই এখন অজনপ্রিয় রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অবস্থান। আইএনএসএস সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলি সরকারের বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন না আসলে এই নেতিবাচক ভাবমূর্তি স্থায়ী রূপ নিতে পারে। যদিও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ উচ্চপদস্থ নেতারা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে অভিযান চালানোর মতো কঠোর ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিচ্ছেন, তবে থিঙ্ক ট্যাঙ্কটি মনে করে এই ধরনের সামরিক উগ্রপন্থা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পুনরুদ্ধারের সব পথ রুদ্ধ করে দিতে পারে। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা প্রদানকারী বন্ধুরাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থন হারালে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরমভাবে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।