২২ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪০ পি.এম

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত চার্জে রাখলে যে ক্ষতি হতে পারে

মোবাইল ফোন অতিরিক্ত চার্জে রাখলে যে ক্ষতি হতে পারে

বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি পদক্ষেপে স্মার্টফোনের ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। দাপ্তরিক কাজ থেকে শুরু করে পারস্পরিক যোগাযোগ কিংবা অবসরে বিনোদন—সবক্ষেত্রেই এই ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। তবে এই যন্ত্রটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অধিকাংশ ব্যবহারকারী একটি বিশেষ বিষয়ে অসতর্ক থাকেন, আর তা হলো প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় ধরে ফোন চার্জে রাখা। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর সময় চার্জ দিয়ে সকালে খোলার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, সেটি ডিভাইসের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক স্মার্টফোনে সাধারণত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের ব্যাটারি দীর্ঘ সময় ধরে শতভাগ চার্জ অবস্থায় থাকলে এর কার্যক্ষমতা ক্রমেই হ্রাস পায়। ফলে ব্যবহারকারী লক্ষ্য করেন যে, সময়ের সাথে সাথে ফোনের চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এর বাইরেও দীর্ঘক্ষণ বৈদ্যুতিক সংযোগে যুক্ত থাকার ফলে ব্যাটারির অভ্যন্তরে উচ্চ তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়। যদিও বর্তমানের ফোনগুলোতে স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকে, তবুও নিয়মিত অতিরিক্ত তাপ তৈরি হলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক উপাদানগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অতিরিক্ত চার্জিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে ব্যাটারি ফুলে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। এতে ফোনের অভ্যন্তরীণ পারফরম্যান্স যেমন বিঘ্নিত হয়, তেমনি ডিভাইসের বাহ্যিক কাঠামোও নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। অনেক ক্ষেত্রে ফোনের পেছনের অংশ উঁচিয়ে আসা কিংবা ডিসপ্লে আলগা হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। মূলত প্রতিটি ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট চার্জিং চক্র থাকে, যা নিয়মিত ভুল পদ্ধতিতে চার্জ দেওয়ার ফলে দ্রুত শেষ হয়ে যায় এবং ফোনটি অকালে অকেজো হয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বিশেষজ্ঞরা কিছু সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বিশেষ করে মানহীন চার্জার ব্যবহার করা কিংবা ফোন চার্জে থাকা অবস্থায় বিছানা বা দাহ্য কোনো বস্তুর ওপর রাখা বিপদের কারণ হতে পারে। এতে ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হয়ে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

স্মার্টফোনের ব্যাটারি দীর্ঘ সময় সচল রাখতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, চার্জের পরিমাণ সবসময় ২০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা সবচেয়ে কার্যকর। অপ্রয়োজনে শতভাগ চার্জ দেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনার পাশাপাশি সবসময় অনুমোদিত এবং মানসম্মত চার্জার ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর সামান্য সচেতনতা এবং চার্জিং অভ্যাসে ছোটখাটো পরিবর্তন একটি স্মার্টফোনকে দীর্ঘকাল সুরক্ষিত ও কার্যকর রাখতে সহায়তা করতে পারে।