৫ মে ২০২৬, ১২:১১ পি.এম

শাপলা চত্বর ঘটনায় ৫৭ জন নিহতের তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে

শাপলা চত্বর ঘটনায় ৫৭ জন নিহতের তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত ঘটনার নিহতের সংখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তিনটি পৃথক স্থানে মোট ৫৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য তারা পেয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় সংঘটিত দুই দফা অভিযানে ৩২ জন নিহত হন, যাদের পরিচয় ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে আরও ২৫ জন নিহত হন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এই তথ্যের পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ ও বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তিনি বলেন, সেদিনের অভিযান দিনে ও রাতে দুই ধাপে পরিচালিত হয় এবং ঢাকাতেই মূল অভিযান চালানো হয়।

তিনি আরও জানান, ঢাকার ৩২ জন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হলেও নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ২৫ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রায় ৩০ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।

প্রায় ১৩ বছর আগে হেফাজতে ইসলাম ১৩ দফা দাবিতে শাপলা চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ব্লগারদের ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ও নারী নীতির বিরোধিতাসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাতেই পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির যৌথ অভিযানে শাপলা চত্বর খালি করা হয়।

ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়। একই বছরের ২৬ নভেম্বর হেফাজতে ইসলামের নেতা জুনায়েদ আল হাবিব শেখ হাসিনাসহ ৫০ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।

বর্তমানে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা নিহতদের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উদঘাটনে কাজ করছে।

অভিযুক্ত ও গ্রেফতার

শাপলা চত্বর ঘটনার পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নেতা শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।

এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও হাসান মাহমুদ খন্দকার এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারও মামলায় আসামি রয়েছেন।

একই ঘটনায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। বর্তমানে তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় পাঁচ বছরের সাজায় কারাগারে আছেন এবং ওই মামলায় তিনি রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ৭১ টেলিভিশন ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর মোস্তফার বিরুদ্ধেও অভিযোগ দাখিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সমাবেশে ‘গণহত্যায় উসকানি’ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরবর্তী ধাপ

শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন সময় নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।