৫ মে ২০২৬, ০৯:১৮ পি.এম

মৌলভীবাজারে ডাকাতি মামলায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মৌলভীবাজারে ডাকাতি মামলায় ১৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মৌলভীবাজারে বহুল আলোচিত এক ডাকাতির মামলায় ১৩ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে, অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাভোগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৩য় আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন—ভাতাইয়া গ্রামের ছবুর মুন্সির ছেলে মিলন মিয়া, মৃত রইছ আলীর ছেলে রাহেল, ঘড়গাঁও গ্রামের মৃত আয়ছর মিয়ার ছেলে দুলাল, ইলিয়াছ আলীর ছেলে শাহেদ ওরফে আবু জাফর, মৃত জঙ্গুর ছেলে সেলিম, দক্ষিণ রাউৎগাঁও গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে সাতির ওরফে সাকিল, ঘড়গাঁও গ্রামের আব্দুল আলীর ছেলে জুনাব আলী, উত্তর বর্ণি গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে কামাল, সুরমান আলীর ছেলে মকরম ওরফে হাজী, মৃত প্রফুল্ল দাসের ছেলে নকুল ওরফে সুমন, বড়তল গুচ্ছ গ্রামের সফাত আলীর ছেলে খোকন, সুজানগর গ্রামের আ. রউফের ছেলে জাকারিয়া এবং বড়লেখা উপজেলার গৌরনগর গ্রামের মনজির আলীর ছেলে জামাল।

রায় ঘোষণার সময় তিনজন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার কর্মদা গ্রামের বাসিন্দা মো. মারুফ আহমদের বাড়িতে ২০০৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি কুলাউড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। তবে ধর্ষণ সংক্রান্ত অভিযোগে পৃথক চার্জশিটের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, “তিনি রায়ে সন্তুষ্ট। এই রায় অবশ্যই একটি দৃষ্টান্ত হিসাবে কাজ করবে, ডাকাতি একটি ভয়াবহ ঘটনা যা সমাজ, পরিবার, শারীরিক, মানষিকভাবে প্রভাব ফেলে। দৃষ্টান্তমুলক সাজা প্রদানে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করতে সহায়ক ভূমিকা বহন করবে।”