শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও মানসম্মত শিক্ষা হাব গড়ে তোলার পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা এডুকেশন হাব। আমাদের সেই রিসোর্স রয়েছে, আমাদের সেই মেধা রয়েছে, আমাদের সেই প্রোগ্রাম রয়েছে, আমাদের সেই ইচ্ছা রয়েছে। এটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য সকলকে এক যোগে কাজ করতে হবে।”
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে যৌথ কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও শিক্ষা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর ভাষায়, “মাত্র ১৬ দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যে কাজ হয়েছিল, তা ১৬ বছরেও করা কঠিন।”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশমাতা বেগম খালেদা জিয়া শিক্ষা উন্নয়নে গভীর আগ্রহী ছিলেন এবং এ খাতে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও সুদূরপ্রসারী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন এবং তিনটি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন—শিক্ষা, শিক্ষা এবং শিক্ষা।
বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজকে বাংলাদেশে আনার বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান।
এহছানুল হক মিলন বলেন, একসময় বাংলাদেশ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য ছিল এবং ভবিষ্যতেও সেই অবস্থান পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিদেশে পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে অবদান রাখার প্রবণতা বাড়াতে হবে।
তিনি স্টেকহোল্ডারদের মতামতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া কার্যকর ও টেকসই সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং ট্রাস্টভিত্তিক পরিচালনার বিষয়গুলো পর্যালোচনার কথাও জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির (এপিইউবি) সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক শামস রহমান।