বুধবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিজেপির নির্বাচনী জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান সাবেক এই সাংসদ।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে দেব লিখেছেন, “বাংলায় নতুন সরকার গঠনের জনাদেশ পাওয়ায় বিজেপিকে অভিনন্দন।
আমি আন্তরিকভাবে আশা করি, সরকার আমাদের রাজ্যের অগ্রগতি, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য কাজ করবে এবং জনগণের কণ্ঠস্বর যেন শোনা হয়, তা নিশ্চিত করবে।”
এ সময় বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
দেব লেখেন, “জনজীবন ও চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একজন হিসেবে, আমি নতুন সরকারকে আন্তরিকভাবে অনুরোধ করব, বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা ও বিভাজনের সংস্কৃতিকে অতীতের বিষয় করে তুলে ঐক্য ও শৈল্পিক স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে। চলচ্চিত্র বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচয়, এবং এর বিকাশ কেবল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহাবস্থান ও সম্মিলিত অগ্রগতির মাধ্যমেই সম্ভব।”
নিজের নির্বাচনী এলাকা ঘাটালের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়েও নতুন সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন দেব। তিনি বলেন, “আমি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও নতুন সরকারের সমর্থন ও সহযোগিতার প্রত্যাশা করছি, যা ঘাটালের মানুষের জন্য একটি দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এবং প্রয়োজনীয়তা। রাজনীতির ঊর্ধ্বে, এটি জীবন রক্ষা, জীবিকা সুরক্ষিত করা এবং ঘাটালের মানুষকে তাদের প্রাপ্য ভবিষ্যৎ দেওয়ার বিষয়।”
এদিকে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলের পরাজয় তাকে ব্যথিত করলেও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন দেব।
তিনি বলেন, “ইন্ডাস্ট্রিতে আর কেউ কাউকে ‘ব্যান’ করতে পারবে না। প্রযোজকদের উপরে নিয়মের বোঝা চাপাতে পারবে না। সুষ্ঠু ভাবে কাজ হবে। কাজের পরিমাণ বাড়বে। বাইরে থেকেও কাজ আসবে।”
রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ইচ্ছার কথাও স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তিনি। দেব বলেন, “রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না। আগের মতো মন দিয়ে অভিনয়টাই করতে চাই। এটাই বরাবর করে এসেছি।”
চলচ্চিত্র অঙ্গনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, “বরাবর ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল চেয়েছি। ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল করার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের অনেক আগে থেকে আমার লড়াই শুরু। ভাল লাগছে, সেই লড়াই অবশেষে সফল হল। যিনি বা যারা ইন্ডাস্ট্রির ভাল চাইবেন, নেপথ্যে থেকে আমি সব সময় তাঁদের পাশে।”
তৃণমূলের পরাজয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিও ঘিরে ভক্তদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে তাকে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সরে এসে অভিনয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দর্শকদের কাছে ‘অভিনেতা দেব’-এর জনপ্রিয়তা এখনও অটুট।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সমালোচনার বড় অংশই মূলত ‘রাজনীতিক দেব’-কে ঘিরে, অভিনেতা হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা এখনো আগের মতোই শক্ত অবস্থানে রয়েছে।