প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূর আখতার জান্নাতুল ফেরদৌস স্বাক্ষরিত আদেশে বুধবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, জারির দিন থেকেই এটি কার্যকর হবে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল বিদ্যালয় চত্বরে থাকা একটি আমগাছ থেকে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী এবং চতুর্থ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী দুটি করে আম পেড়ে খায়। পরদিন ২৯ এপ্রিল প্রধান শিক্ষিকা গোল সাহানারা ওই তিন শিক্ষার্থীর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন এবং তাদের পিঠে ‘আমি আম চোর’ লেখা কাগজ ঝুলিয়ে দেন। এরপর তাদের শ্রেণিকক্ষ ও বারান্দায় ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর গত ৩ মে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কবীর অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরদিন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার আগেই তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।
বরখাস্তের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ‘চোর’ বলে আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে অপমান করায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ১২ (১) অনুযায়ী জনস্বার্থে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। পরবর্তীতে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে।