চলমান আইপিএল চলাকালীন ক্রিকেটারদের হানি-ট্র্যাপসহ বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও ফাঁদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে বিসিসিআই।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া স্বাক্ষরিত সাত পৃষ্ঠার একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বর্তমান উচ্চ-প্রোফাইল ক্রীড়া পরিবেশে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিসিসিআইয়ের ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়, বিশ্বজুড়ে বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্টে ক্রিকেটারদের ব্ল্যাকমেইল করা বা হানি-ট্র্যাপের মাধ্যমে অনৈতিক কাজে লিপ্ত করার নজির রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা কেবল একজন খেলোয়াড়ের পেশাদার জীবনই ধ্বংস করে না, বরং যৌন অসদাচরণের মতো গুরুতর আইনি জটিলতারও জন্ম দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষকে প্রতিটি পদক্ষেপে চরম সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খেলোয়াড়দের আবাসন বা হোটেলে বহিরাগতদের প্রবেশের ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট টিম ম্যানেজারের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো অতিথি বা দর্শনার্থী কোনোভাবেই খেলোয়াড় অথবা সাপোর্ট স্টাফদের কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না। একান্ত প্রয়োজনে কারও সঙ্গে দেখা করতে হলে হোটেলের লবি বা রিসেপশন লাউঞ্জের মতো উন্মুক্ত স্থান ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ কোনো কারণে কাউকে রুমে নেওয়ার প্রয়োজন হলে আগেভাগেই টিম ম্যানেজারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে অনেক খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের না জানিয়েই অসময়ে হোটেল ত্যাগ করছেন, যা বোর্ডের নজরে এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্ধারিত সিকিউরিটি লিয়াজোঁ অফিসার (এসএলও) বা টিম ইন্টেগ্রিটি অফিসারদের (টিআইও) অবগতি ছাড়া এমন আচরণ নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। আইপিএলের স্বচ্ছতা ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে।