রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আনন্দের সঙ্গী হয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার রাতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক বিবাহোত্তর সংবর্ধনায় অংশ নিয়ে উপস্থিত সবাইকে বিস্মিত করেন তিনি।
গত ৯ মে শনিবার কেআইবি মিলনায়তনে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত একটি দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দিনভর সাংগঠনিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা ও রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি জানতে পারেন যে, সন্ধ্যায় একই মিলনায়তনের অন্য একটি অংশে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সে কথা বিবেচনা করে তিনি দলীয় কর্মসূচি দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন।
দলীয় কাজ শেষে তাৎক্ষণিক ফিরে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে উপস্থিত হন। সে সময় বর অনুষ্ঠানস্থলে না পৌঁছালেও তিনি কনের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং নবদম্পতির সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানান। সরকারপ্রধানকে হঠাৎ চোখের সামনে দেখে কনেসহ উপস্থিত আত্মীয়-স্বজনরা আপ্লুত হয়ে পড়েন।
একজন প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্ভার বিনয় এবং সাধারণ মানুষের প্রতি অকৃত্রিম সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টি আগত অতিথিদের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই মন্তব্য করেন, এমন দায়িত্বশীল ও সহমর্মিতামূলক আচরণ একজন জনবান্ধব নেতার পরিচয় বহন করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে কনেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে শুভেচ্ছা পাওয়ার পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। জীবনের এই বিশেষ মুহূর্তটি আজীবন অমলিন হয়ে থাকবে বলে জানান তিনি।