১০ মে ২০২৬, ০৫:২২ পি.এম

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক এখন বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক এখন বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে বাংলাদেশ। যদিও গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির হার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে চীনের রপ্তানি ব্যাপক হারে কমে যাওয়ায় এই অবস্থানের পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে এই বাজারে ভিয়েতনাম শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা)-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ২০৪ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের পোশাক রপ্তানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই রপ্তানি ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম হলেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে।

বিপরীত দিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক নীতির কারণে চীনের রপ্তানি চিত্র বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনের রপ্তানি প্রায় ৫৩ শতাংশ কমে ১৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৩৬১ কোটি ডলার। ফলে চীনকে টপকে বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় প্রধান পোশাক সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

শীর্ষ স্থানে থাকা ভিয়েতনাম চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ৩৯৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানির ২২ শতাংশ বর্তমানে ভিয়েতনামের দখলে, যেখানে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব রয়েছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। অটেক্সার প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে মোট ১ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে কেবল ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে; বিপরীতে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি কমেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে ভারতের রপ্তানি ২৭ শতাংশ কমে ১১০ কোটি ডলারে এবং ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য কমে ১২২ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ শুল্ক নীতির কারণে বৈশ্বিক পোশাক বাজারে এই ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে চীনের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ফলে অন্য দেশগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার কিছুটা নমনীয় হওয়ায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সহজ হয়েছে। তবে রপ্তানিকারকরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন ক্রয়াদেশের গতি বর্তমানে কিছুটা মন্থর।