তিনি জানান, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় এখন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পেল।
২০২৩ সালের ১ জুন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ জামায়াত সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সর্বোচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দলটির ‘পেন্ডিং রেজিস্ট্রেশন’সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন জামায়াতকে প্রতীকসহ পুনরায় নিবন্ধন প্রদান করে।
আদালতে জামায়াতের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম।
এর আগে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট এক রিট নিষ্পত্তি করে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করে। পরে ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে।
পরবর্তীতে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে জামায়াতে ইসলামী। তবে আপিল শুনানিতে প্রধান আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মামলাটি ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’ বলে খারিজ করেন। এতে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
এরপর ২০২৪ সালের ১ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮(১) ধারায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। তবে পরে ২৮ আগস্ট সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নতুন প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়।
এ ধারাবাহিকতায় জামায়াতের নিবন্ধনসংক্রান্ত মামলায় পুনরায় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়। আইনজীবী শিশির মনির জানান, আগের আপিলটি ‘ডিসমিসড ফর ডিফল্ট’ হলেও ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর পুনরুজ্জীবনের আবেদন মঞ্জুর হলে মামলাটি আবার মেরিট অনুযায়ী শুনানির পর্যায়ে ফিরে আসে।