১১ মে ২০২৬, ০৭:০০ পি.এম

'পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতি থেকেই দুর্নীতির জন্ম'

'পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতি থেকেই দুর্নীতির জন্ম'

পুলিশের দুর্নীতির অন্যতম মূল কারণ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের অভাবকে চিহ্নিত করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি মনে করেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের বাস্তবতা ও আর্থিক সহায়তার মধ্যে বড় ধরনের অসামঞ্জস্যই অনাকাঙ্ক্ষিত অনিয়মের জন্ম দিচ্ছে।

সোমবার (১১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি বলেছিলেন—পুলিশকে “ম্যানেজ” করে চলার সংস্কৃতি থেকেই দুর্নীতির সূচনা হয়, এবং এই বাধ্যবাধকতা দূর করতে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে আরও বলেন, গুরুতর ফৌজদারি মামলার তদন্তে বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, খুন ও ডাকাতির মতো বড় মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয়।

তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তে বরাদ্দ মাত্র ৩ হাজার টাকা। এই সীমিত অর্থ দিয়ে তদন্ত পরিচালনা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য একজন তদন্ত কর্মকর্তা কেন নিজের ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করবেন? তার মতে, এ ধরনের আর্থিক চাপই অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনৈতিক উপায়ের দিকে ঠেলে দেয়।


কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম বাস্তবায়নের দাবি

পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, অন্যান্য সরকারি চাকরিতে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও পুলিশের ক্ষেত্রে তা নেই। তাদের প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়।

তিনি জানান, সংসদে বিষয়টি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওভারটাইম সুবিধা চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে তিনি দ্রুত সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


‘না’ বলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান

জনগণের আস্থা ফেরাতে পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। তার মতে, আইনবহির্ভূত নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান করার মানসিকতা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক চাপের কারণে বেআইনি নির্দেশ পালন করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরাও এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অজান্তেই যুক্ত হয়ে পড়েন। তার মতে, পুলিশকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে বেআইনি গ্রেপ্তার বা হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


আইনি সুরক্ষা ও পেশাগত স্বাধীনতা

বেআইনি নির্দেশ অমান্য করার কারণে কোনো পুলিশ সদস্য যেন শাস্তি বা হয়রানির মুখে না পড়েন, সে জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নেরও দাবি জানান।

সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন—সংসদ ও সরকার পুলিশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করছে, পুলিশ বাহিনী কি সত্যিই সেই স্বাধীনতা গ্রহণের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত?