১১ মে ২০২৬, ০৯:৫৮ পি.এম

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব, আদালতে তৃণমূল

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব, আদালতে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

দলটির দাবি, রহস্যজনকভাবে ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার কারণে অন্তত ৩১টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনী ফলাফল সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। এই আসনগুলোতে ২০২১ সালে তৃণমূল জয়ী হলেও এবার নাম কাটার প্রভাবে তারা পরাজিত হয়েছে এবং বিজেপি জয়লাভ করেছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিকালে তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী ও সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন। বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন তিনি বলেন, ভোটার তালিকা থেকে কৌশলে নাম বাদ দেওয়ার ফলে অনেক আসনে তৃণমূল প্রার্থীরা অত্যন্ত সামান্য ব্যবধানে হেরেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি একটি আসনের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে তৃণমূল প্রার্থী মাত্র ৮৬২ ভোটে পরাজিত হয়েছেন, অথচ সেই আসনেই ভোটার তালিকা থেকে ৫ হাজারেরও বেশি নাম কেটে ফেলা হয়েছিল।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, পুরো রাজ্যে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে মোট প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান যেখানে প্রায় ৩২ লাখ, সেখানে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিরুদ্ধে এখনও ৩৫ লাখেরও বেশি আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক আবেদন বিবেচনা না করেই নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

তবে আদালত এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তৃণমূলকে সুনির্দিষ্ট পিটিশন দাখিল করার পরামর্শ দিয়েছে। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের কারণে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত হয়েছে—এমন দাবি প্রতিষ্ঠিত করতে হলে আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে। অন্যদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, এ ধরনের পরিস্থিতির আইনি প্রতিকার পেতে হলে নির্বাচনী পিটিশন বা ‘ইলেকশন পিটিশন’ দায়ের করাই সঠিক পদ্ধতি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের এই বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমবারের মতো বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, যেখানে ২৯৪টি আসনের মধ্যে তারা ২০৭টিতে জয়ী হয়েছে। বিপরীতে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৮০টি আসনে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই অভাবনীয় ফলাফলের পেছনে ভোটার তালিকায় কারচুপিকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে দেখছে ঘাসফুল শিবির।