১১ মে ২০২৬, ১০:৫৪ পি.এম

সীমান্ত হত্যা ও হামে শিশু মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

সীমান্ত হত্যা ও হামে শিশু মৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা, হামের টিকা প্রদানে অব্যবস্থাপনা এবং এর ফলে সৃষ্ট শিশু মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। এ সময় তারা ‘সীমান্তে মানুষ মরে, সরকার কী করে’, ‘হাসপাতালে শিশু মরে, প্রশাসন কী করে’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ সংবলিত স্লোগানে রাজু ভাস্কর্য এলাকা উত্তাল করে তোলেন। আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ভার সরকারকে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আসিয়া আক্তার রেমিজা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই পথে চললেও বর্তমান নির্বাচিত সরকার পুনরায় নতজানু নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগের ধারাবাহিকতায় বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীও জনস্বার্থ রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছেন না।

সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনের পূর্বে যারা দেশপ্রেমের স্লোগান দিয়েছিল, তারা এখন সীমান্ত হত্যা নিয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব। তিনি আরও দাবি করেন, টিকা ব্যবস্থাপনার চরম ত্রুটির কারণে বর্তমানে শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি দ্রুত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সমাপনী বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী সরকারের চার মাসের কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, মব কালচার বন্ধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। তিনি জ্বালানি সংকট ও সিন্ডিকেট ইস্যু তুলে ধরে বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের চেয়ে ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় বেশি মনোযোগী।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাহমিদ চৌধুরী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের উসকানিতে বিএসএফ সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। ভারতের এই আগ্রাসী আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের জোরালো অবস্থান না থাকাকে তিনি দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন। পরিশেষে, হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ অনুসন্ধানে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন এবং স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা জারির মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি।