পশ্চিম এশিয়ার অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অত্যন্ত গোপনীয় বিমান হামলা চালানোর খবর প্রকাশ পেয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, আমিরাতের শহর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো নিয়মিত হামলার জবাব দিতেই আবুধাবি এই পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলমান এই সংঘাতে ইসরায়েলের চেয়েও বেশি আক্রমণের শিকার হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কার্যত আরব আমিরাত এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে আমিরাত এই গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। এর মধ্যে গত এপ্রিলের শুরুতে পারস্য উপসাগরের লাভান দ্বীপে অবস্থিত ইরানের একটি তেল শোধনাগারে হামলাটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সেই সময় ইরান তাদের স্থাপনায় হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেনি। তবে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় পরবর্তীতে আমিরাত ও কুয়েতকে লক্ষ্য করে ইরান ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। মূলত ইরানের প্রতিদিনের উসকানি ও আগ্রাসন মোকাবিলা করতেই আমিরাত এই গোপন পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছিল বলে জানা গেছে।
পশ্চিম এশিয়া যুদ্ধের এই নতুন তথ্য বিশ্ব রাজনীতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ইতিপূর্বে ইরানের ভূখণ্ডে আমিরাতের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো নজির বা প্রকাশ্য ঘোষণা ছিল না। দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে এক ধরনের চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিনিয়ত আক্রমণের মুখে পড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন তাদের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা আঘাতের কৌশল নতুন করে সাজাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গোপন হামলার তথ্য প্রকাশ হয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও সামরিক মেরুকরণ আরও জটিল রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এই ঘটনা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।