১২ মে ২০২৬, ১২:৫১ পি.এম

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

ইরান-মার্কিন যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’: ট্রাম্প

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শান্তি স্থাপনের প্রস্তাবে ইরানের দেওয়া পাল্টা শর্তগুলো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

বর্তমান পরিস্থিতির অবনতি উল্লেখ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, এই চুক্তিটি এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।

শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান বেশ কিছু কঠোর শর্ত সামনে এনেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য তাদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং মার্কিন নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে। এর পাশাপাশি বিশ্ব তেলের বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি চেয়েছে দেশটি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই দাবিগুলোকে সরাসরি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তেহরানের এই অনড় অবস্থান ৭ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া সাময়িক শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ইরানকে চাপে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিশেষ করে যারা অবৈধভাবে ইরানি তেল চীনের বাজারে পাঠাতে সহায়তা করছে, সেইসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এই কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

ইরান অবশ্য তাদের অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, এসব দাবি অত্যন্ত ন্যায্য এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় তাদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, তেহরান যদি সমঝোতায় না আসে, তবে তারা পুনরায় কঠোর সামরিক বা অর্থনৈতিক পদক্ষেপের পথে হাঁটবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা এখন এক চরম অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে।