১২ মে ২০২৬, ০৫:৩৮ পি.এম

খেলাধুলা নিয়ে জুয়ায় জড়িতদের ১০ বছর কারাদণ্ডের পক্ষে তামিম

খেলাধুলা নিয়ে জুয়ায় জড়িতদের ১০ বছর কারাদণ্ডের পক্ষে তামিম

ক্রীড়াঙ্গনে জুয়া ও দুর্নীতির লাগাম টানতে কঠোর আইন ও ফৌজদারি শাস্তি চালুর পক্ষে জোরালো অবস্থান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।

সাক্ষাৎকারে তামিম জানান, খেলাধুলায় বেটিং ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান চালুর বিষয়টি তিনি ইতোমধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সম্ভব (বেটিংয়ে জড়িতদের ১০ বছরের শাস্তি বিধান করা)। সংসদের স্পিকার টেস্ট ম্যাচ দেখতে এসেছিলেন, আমি বিষয়টি তার সামনে তুলেছি। ক্রীড়ামন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। আমি শুধু বেটিং নয়, পুরো ক্রীড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইন চাই। এখন দুর্নীতিবাজরা জানে, ধরা পড়লেও সর্বোচ্চ শাস্তি নিষেধাজ্ঞা। তাদের বুঝতে হবে ধরা পড়লে জেলে যেতে হবে। দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে না, তবে অনেক কমে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, অতীতের তুলনায় বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের একটি অংশ দ্রুতই অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা বৈশ্বিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে।

তামিমের ভাষায়, ‘আমরা ছোটবেলায় শুধু খেলতে জানতাম, জয়-পরাজয়, রান করা এবং উইকেট নেওয়া। এখন ছোট ছোট ছেলেরা এসবের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে, শুধু বাংলাদেশে নয়-সারা বিশ্বেই। তাদের বুঝতে হবে, যেমন চুরি করলে জেলে যাওয়ার বিষয়ে শেখানো হয়, তেমনি বেটিংয়ে জড়ালেও জেলে যেতে হতে পারে’।

বিসিবির অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্নের জবাবে তিনি খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার খেলোয়াড়রা ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করুক। কিন্তু তাদের জন্য আমি কী করেছি? যদি আমি তাদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা না দিই, অথচ তা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে, তাহলে তাদের কাছে এত প্রত্যাশা করা কি ন্যায্য? আমার তা মনে হয় না।’

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতীত স্মৃতিচারণ করে তামিম বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে জায়গা পাওয়ার লড়াইয়ের সময়গুলো এখনো তাকে নাড়া দেয়।

তার কথায়, ‘আমি ১৯৯৬-৯৭ সালের কথায় ফিরতে চাই উল্লেখ করে বিসিবি প্রধান বলেন, কেনিয়ার বিপক্ষে আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপে জায়গা পেতে আমরা অনেক লড়াই করেছি। আমার বাড়ির চারপাশ রঙিন পানিতে ভেসে গিয়েছিল। রাস্তায় নেমে উদযাপন করেছিল মানুষ। সেই উদযাপনই শিশুদের ক্রিকেটে টেনে আনে, সবাই হতে চেয়েছিল মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, খালেদ মাহমুদ, আকরাম খান। আর আমরা সঠিক কোনো আলোচনা ছাড়াই একটি বিশ্বকাপে খেলা ছেড়ে দিলাম। ওই দলে এমন খেলোয়াড়ও থাকতে পারে, যারা আর কখনও বিশ্বকাপ খেলতে পারবে না। বিষয়টি আমি ভালোভাবে নিতে পারিনি।’

ভারত–বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পারস্পরিক সিরিজ আয়োজনই সম্পর্ক উন্নয়নের সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে।

তামিমের মতে, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দারুণ। কোনো সমস্যা নেই, কোনো নিরাপত্তা হুমকিও নেই, ভারতীয় দলের জন্য তো কখনোই ছিল না। তারা এখানে এলে পুরো স্টেডিয়াম ভরে যায়। মানুষ এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপভোগ করে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না, বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে এখন আর কোনো বাস্তব সমস্যা আছে। বাংলাদেশে একটি সিরিজ আয়োজনই হতে পারে সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার সেরা উপায়।’