ইসরায়েলের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধে ইরানে ইহসান আফরেসথ নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার সকালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইহসান আফরেসথ নেপালে গিয়ে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের কাছ থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন। প্রশিক্ষণ শেষে তিনি ইরানের বিভিন্ন স্পর্শকাতর গোয়েন্দা তথ্য ইসরায়েলের কাছে পাচার করেন। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর করল তেহরান।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত ৩৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির মধ্যে ৩০টিই পুনরায় সচল বা পুনরুদ্ধার করেছে ইরান। এর ফলে ওই অঞ্চল দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব ঘাঁটির অধিকাংশতেই মোবাইল লঞ্চার ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে, যার মাধ্যমে ইরান যেকোনো সময় যেকোনো স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র স্থানান্তর করতে সক্ষম। এছাড়া কিছু ঘাঁটিতে স্থায়ী লঞ্চ প্যাডও স্থাপন করা হয়েছে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলায় এই ৩৩টি ঘাঁটির ওপর ব্যাপক তর্জন-গর্জন হলেও মাত্র তিনটি ঘাঁটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছিল। বাকি ৩০টি ঘাঁটি পুনরায় কার্যকর করায় হরমুজ প্রণালি এলাকায় সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ রুটে ইরানের এই শক্তিশালী অবস্থান বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।