দেশে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি, যোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করে একটি সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণসহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
আজ সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে এডিবির বর্তমান সভাপতি মাসাতো কান্দা সংস্থার এই বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। উক্ত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে এডিবি প্রধান মাসাতো কান্দা উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নতুন অর্থনৈতিক ধাপে পদার্পণ করছে। দেশের অর্জিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির নতুন খাত তৈরি এবং আরও বহুমুখী ও সংকট-সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তুলতে এডিবি তার অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ’ নামক একটি বিশেষ নতুন কর্মসূচির আওতায় আগামী পাঁচ বছরে এই পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন পাবে বাংলাদেশ, যা মূলত এডিবির বর্ধিত বার্ষিক ঋণসহায়তা কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে এডিবির বার্ষিক সার্বভৌম ঋণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। মধ্যমেয়াদে এই সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে প্রতি বছর প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখা তৈরি করেছে এই আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা। এডিবি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে, এই অতিরিক্ত অর্থায়ন দেশের বিনিয়োগ-নির্ভর প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ প্রক্রিয়াকে বেগবান করবে।
এর পাশাপাশি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার এবং আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট চাপ সামলাতে এডিবি বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ২৫০ মিলিয়ন ডলারের জরুরি সহায়তা দেবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মধ্যমেয়াদি সার্বিক উন্নয়ন কাঠামো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় তদারকি ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও ২০ লাখ ডলারের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে সংস্থাটি।