২৭ মে ২০২৬, ০১:৫২ পি.এম

অবৈধ বাংলাদেশিদের’ দ্রুত পশ্চিমবঙ্গ ছাড়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

অবৈধ বাংলাদেশিদের’ দ্রুত পশ্চিমবঙ্গ ছাড়ার হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গে বসবাসরত ‘নথিবিহীন বাংলাদেশিদের’ অবিলম্বে রাজ্য ত্যাগ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে বহু সংখ্যক ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ সমবেত হয়েছেন—এমন একটি টেলিভিশন প্রতিবেদন দেখার পর তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান। মঙ্গলবার ২৬ মে এক হুশিয়ারিতে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সেখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব চলে যাওয়াই শ্রেয়।

সীমান্তবর্তী এলাকায় সমবেত হওয়া ব্যক্তিদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, অবিলম্বে তাদের চলে যেতে হবে, অন্যথায় প্রশাসন নিজস্ব আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

একই সঙ্গে এই ব্যক্তিদের দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে তাগিদ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী মন্তব্য করেন, অনুপ্রবেশকারীদের কারাগারে রেখে সাধারণ করদাতাদের অর্থের অপচয় করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তারা স্থানীয় নাগরিকদের অধিকার খর্ব করছেন দাবি করে তিনি বলেন, আইন আগে থেকেই বলবৎ থাকলেও কেবল রাজনৈতিক ফায়দা ও ভোটব্যাংকের স্বার্থে অতীতে এর প্রয়োগ করা হয়নি। তবে বর্তমান সরকার সব ধরনের সংকীর্ণ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাজ্য ও দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) কঠোরভাবে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।

নদিয়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কল্যাণীতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সীমান্তে জড়ো হওয়া ওই ব্যক্তিরা মূলত নিজ দেশে ফিরে যেতে আগ্রহী।

কল্যাণীর সেই প্রশাসনিক সভায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, বহিরাগতদের পেছনে রাজ্যের সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধা কেন ব্যয় করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে তিনি জানান, আইনি জটিলতা এড়িয়ে এদেরকে সরাসরি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়লাভের পরপরই বিতর্কিত সিএএ আইন বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন এই বিজেপি নেতা। সেই ধারাবাহিকতায় অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে তিনি পুলিশ ও সীমান্ত বাহিনীকে সুনির্দিষ্ট নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন।