৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পি.এম

জুড়ীতে বজ্রাঘাতে ১৪টি গবাদিপশুর মৃত্যু, বিপাকে শ্রমিক পরিবার

জুড়ীতে বজ্রাঘাতে ১৪টি গবাদিপশুর মৃত্যু, বিপাকে শ্রমিক পরিবার

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনায় চা-শ্রমিক পরিবারের ১৩টি গরু এবং ১টি মহিষের প্রাণহানি ঘটেছে। দুপুরের দিকে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কয়েকটি দরিদ্র পরিবার বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বুধবার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের কুচাই জ্বালাই ও পাথরটিলা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, বুধবার দুপুরের দিকে ওই অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির পাশাপাশি তীব্র বজ্রপাত শুরু হয়। ওই সময় উন্মুক্ত মাঠে ঘাস চিবানো অবস্থায় থাকা গবাদিপশুগুলো সরাসরি বজ্রাঘাতের শিকার হয় এবং ঘটনাস্থলেই সব কটি পশুর মৃত্যু ঘটে। চোখের পলকে নিজেদের শেষ সম্বল হারিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মাঝে এখন তীব্র শোক ও হতাশা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া এই পশুপালই ছিল খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর আয়ের মূল চালিকাশক্তি। অনেক পরিবার নিয়মিত দুধ বিক্রি করে এবং এই পশুগুলো লালন-পালন করে কোনো রকমে সংসার চালাত। আকস্মিক এই লোকসানের ফলে তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে এবং পরিবারগুলো চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রায় সবাই অত্যন্ত নিম্নআয়ের চা-শ্রমিক। সুদীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই পশুপাল গড়ে তুলে তারা নিজেদের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু প্রকৃতির এই অমোঘ তাণ্ডবে তাদের সেই আশার আলো এক মুহূর্তেই নিভে গেল।

এই ঘটনার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং প্রতিবেশীরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবিলম্বে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনার জোর দাবি তুলেছেন। তারা মনে করছেন, এই নিঃস্ব ও মেহনতি মানুষের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তা না হলে তাদের ভবিষ্যৎ জীবিকা পুরোপুরি হুমকির মুখে পড়বে।

এ প্রসঙ্গে জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সব ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোকে এই অসহায় মানুষগুলোর সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।