৫ জুন ২০২৬, ০৩:২১ পি.এম

যুক্তরাজ্যে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় একমাত্র নারী কমান্ডোসহ ৩ জন নিহত

যুক্তরাজ্যে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় একমাত্র নারী কমান্ডোসহ ৩ জন নিহত

হেলিকপ্টার পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে ছিলেন লিলি-মে ফিশার। কিন্তু শেষ মূল্যায়ন ফ্লাইটই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা। সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাজ্যের সেবারত একমাত্র নারী রয়্যাল নেভি কমান্ডোসহ তিনজন নৌসদস্য।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সময় একটি মারলিন এমকে-৪ সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে লিলি-মে ফিশার নিহত হন। তার সঙ্গে আরও দুজন রয়্যাল নেভি সদস্যও প্রাণ হারান।

নৌবাহিনী ফিশারকে ‘দেশের একমাত্র সেবারত নারী রয়্যাল নেভি কমান্ডো’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

২০২২ সালে কঠোর কমান্ডো প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করে গ্রিন বেরেটধারী কমান্ডো হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। ওই প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পদযাত্রাও সম্পন্ন করতে হয়েছিল তাকে।

বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র সাতজন নারী এই কঠিন কমান্ডো প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন। এ সময়ে মোট ১৭ জন নারী প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছিলেন। ফিশার ছিলেন সেই সফল সাতজনের একজন।

নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শেষ ফ্লাইট প্রশিক্ষণ মূল্যায়নের সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। চলতি মাসেই তার হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে আনুষ্ঠানিক যোগ্যতা অর্জনের কথা ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পরিচিত মুখ ছিলেন লিলি-মে ফিশার। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ৪৫ হাজারের বেশি। সেখানে তিনি সামরিক বাহিনীতে নারীদের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনের সময় ঋতুস্রাবকালীন নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতেন।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, ফিশার অসংখ্য মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন। বিশেষ করে তরুণ নারীদের নিজেদের স্বপ্ন অনুসরণ করতে তিনি উৎসাহ জুগিয়েছেন।