৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৫ পি.এম

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক না গলাতে মাস্ককে সতর্ক করলেন কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নাক না গলাতে মাস্ককে সতর্ক করলেন কিয়ার স্টারমার

যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্ক সৃষ্টি করায় প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সের মালিক ইলন মাস্ককে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাম্প্রতিক এক হত্যাকাণ্ড ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে মাস্কের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের পর এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) স্টারমার বলেন, যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাইরের কোনো ব্যক্তি বিভাজন তৈরির চেষ্টা করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। তার এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে গত বছরের এক আলোচিত হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট নতুন বিতর্ক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বছর, যখন ১৮ বছর বয়সী হেনরি নোয়াক ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ হামলাকারীর পক্ষ থেকে আনা বর্ণবাদী হামলার অভিযোগকে গুরুত্ব দেয় এবং আহত হেনরিকে সহায়তা করার পরিবর্তে তাকে হাতকড়া পরায়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তদন্তে পরবর্তীতে জানা যায়, হামলাকারীর ওই অভিযোগের কোনো সত্যতা ছিল না।

চলতি সপ্তাহে আদালত অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করার পর প্রকাশ করা হয় পুলিশের বডিক্যাম ফুটেজ। ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুতর আহত হেনরির আকুতিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফুটেজ প্রকাশের পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং পুলিশের বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইলন মাস্ক এক্সে একাধিক পোস্টে পুলিশের আচরণের সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমা সমাজে কাউকে বর্ণবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করাকে এমনভাবে দেখা হচ্ছে যেন তা ধর্ষণ বা হত্যার চেয়েও বড় অপরাধ।

মাস্কের এই মন্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, তিনি কয়েকদিন ধরে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তবে দেশ এভাবে পরিচালিত হয় না। তিনি পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করলেও বিক্ষোভের নামে সহিংসতার নিন্দা জানান।

এদিকে নিহত হেনরি নোয়াকের পরিবারের সদস্যরা স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনাটিকে অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তবে তারা স্পষ্ট করেছেন, তাদের ছেলের মৃত্যুকে রাজনৈতিক কিংবা সাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হোক—এটি তারা চান না।

কিয়ার স্টারমার ও ইলন মাস্কের মধ্যে মতবিরোধ নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন মাস্ক। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, প্রধান সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্টারমার দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত তরুণীদের ওপর সংঘটিত যৌন নিপীড়নের একটি চক্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেননি।

অন্যদিকে, স্টারমার সম্প্রতি তার লেবার পার্টির এক নারী সংসদ সদস্যের পক্ষে অবস্থান নেন। ওই এমপি অভিযোগ করেছিলেন, গ্রোক এআই ব্যবহার করে তার বিকৃত ছবি তৈরি করা হয়েছে, যার জন্য তিনি মাস্ককে দায়ী করেন।

এদিকে মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় আইপিওর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে তার এই প্রকাশ্য বিরোধ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স