বাগেরহাটের ফকিরহাটে চার বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে পুকুরে গোসল করানোর কথা বলে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। সম্পর্কের সূত্রে ভুক্তভোগী শিশুটি ওই ব্যক্তিকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ফকিরহাট মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মোজাহিদ শেখ (৪০)। তিনি ফকিরহাটের বৈলতলী গ্রামের প্রয়াত গাউস শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশ তাকে আইনের আওতায় আনে। পরবর্তীতে শুক্রবার (৫ জুন) দুপুরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার বিবরণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলের শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। প্রতিবেশী হওয়ার কারণে মোজাহিদ শেখ প্রায়ই তাকে আদর-স্নেহ করতেন এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার কিনে দিতেন। ফলস্বরূপ, শিশুটিও তাকে নিজের চাচার মতো বিশ্বাস করত।
গত ৩ জুন দুপুরে অভিযুক্ত মোজাহিদ শিশুটিকে তাদের বাড়ির নিকটবর্তী একটি পুকুরে গোসল করানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে যান। গোসল শেষে বাড়ি ফেরার পর শিশুটি তার যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে তীব্র শারীরিক কষ্ট অনুভব করতে থাকে। একপর্যায়ে সে তার মায়ের কাছে অসুস্থতার কথা প্রকাশ করলে পুরো বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, শিশুটির বাবা একজন সাধারণ দিনমজুর। জীবিকার তাগিদে তিনি অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতেন এবং মা ঘরের নানা কাজে ব্যস্ত থাকতেন। এই সুযোগে মোজাহিদ শেখ প্রায়ই শিশুটিকে নিজের সাথে ঘুরতে নিয়ে যেতেন। পূর্বে শিশুটির কিছু আচরণ ও কথাবার্তায় পরিবারের মনে সামান্য সন্দেহের উদ্রেক হলেও তারা বিষয়টি তখন তেমন গুরুত্ব দেননি। তবে সবশেষ শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন যে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
এরপর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বৈলতলী গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত মোজাহিদকে দেখতে পেয়ে আটকে রাখেন এবং পুলিশে সংবাদ দেন। খবর পেয়ে ফকিরহাট থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, "খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ভুক্তভোগী শিশুর বাবার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"