এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ কাউছার, সামিউল ইসলাম সজীব, নুসরাত তাহসিন, সামিয়া খান ও আরমান আরিফ এবং একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হোসাইন ঠাকুর।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষণস্থায়ী সহানুভূতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এ উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পেশাদার শিল্পীদের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত আর্ট ও পেইন্টিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো পরিমার্জন করে প্রদর্শনীর আয়োজন এবং বাজারজাত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফ্রেম, ওয়াল আর্ট ও বিভিন্ন ক্রাফট পণ্যে রূপ দিয়ে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে যে অর্থ আয় হবে, তা শিশুদের উন্নয়ন এবং আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
প্রশিক্ষণের শুরু থেকেই শিশুদের সৃজনশীলতা প্রশিক্ষকদের মুগ্ধ করেছে। রঙ-তুলির ছোঁয়ায় তারা ফুটিয়ে তুলছে প্রকৃতি, পরিবার, স্বপ্ন ও নিজের অনুভূতির গল্প। অনেকের ছবিতে উঠে এসেছে পাহাড়, নদী, পাখি, গ্রামবাংলা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষা।
সংগঠনের সদস্যদের ভাষ্য, আর্থিক সীমাবদ্ধতা কিংবা পারিবারিক অভাব কোনো শিশুর প্রতিভা বিকাশের অন্তরায় হওয়া উচিত নয়। যথাযথ প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনটির কো-ফাউন্ডার ফরহাদ কাউছার বলেন, "তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই আমরা 'আলোর ক্যানভাস' নামে একটি তরুণনির্ভর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি। আমাদের প্রথম উদ্যোগ শুরু হয়েছে কুমিল্লার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথ আশ্রমের শিশুদের নিয়ে। সুযোগের অভাবে তাদের অনেক সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। আমরা তাদের সেই প্রতিভাকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকশিত করে স্বনির্ভর করে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের দক্ষতাকেই জীবিকার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।"
তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে শিশুদের আর্ট ও পেইন্টিং শেখানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের আঁকা ছবিগুলো ফ্রেম, ওয়াল আর্ট ও অন্যান্য ক্রাফট পণ্যে রূপ দিয়ে বাজারজাত করা হবে। এসব থেকে অর্জিত সম্পূর্ণ মুনাফা শিশুদের উন্নয়ন ও আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করছি। আমাদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই শিশুরা একদিন একটি সুন্দর ও স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।"