মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত এক নতুন মাত্রায় রূপ নিয়েছে। টানা এক সপ্তাহ ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় বিমান ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওয়াশিংটন প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান চালানো হয়েছে। এর বিপরীতে কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকে নিশানা করে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান।
আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, চালকবিহীন ড্রোন ও নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে ইরানি সামরিক বাহিনীর শক্তি দুর্বল করার লক্ষ্যে নতুন করে অভিযান চালানো হয়েছে। পেন্টাগনের দাবি, এই অভিযানে মূলত প্রতিপক্ষের রাডার ও নজরদারি কেন্দ্র, রসদ সরবরাহ অবকাঠামো, মাটির নিচে অবস্থিত সমরাস্ত্র ভাণ্ডার এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউজের সর্বোচ্চ নীতিপ্রণেতাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের ওপর এই সামরিক চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলোকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। চলমান এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রণকৌশলগত অবস্থানে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি আমেরিকান সেনা সদস্যকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় মোতায়েন রাখা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নতুন করে বিমান হামলার আশঙ্কায় সাধারণ জনগণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বোমাবর্ষণে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের কাজ চলছে এবং ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ এই বিমান হামলায় তিনজন সাধারণ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী বাহরাইনেও। সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিমান হামলার আশঙ্কাজনক সাইরেন বাজানো হয়েছে। সাইরেন বাজার পরপরই দেশটির নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য সরকারিভাবে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিক থেকে ইরানি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, আমেরিকান আগ্রাসনের জবাবে তারা কুয়েত ও জর্ডানের ভেতরে থাকা বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে সফলভাবে চালকবিহীন ড্রোন হামলা সম্পন্ন করেছে। কুয়েতে অবস্থিত ক্যাম্প উদাইরি এবং আলী আল সালেম ঘাঁটির অস্ত্রাগার, প্রধান কার্যালয় ও লজিস্টিক ভবনগুলোতে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বা আল আজরাক বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর তেলের ডিপো লক্ষ্য করেও সফল অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইরান। সার্বিক পরিস্থিতিতে তেহরানের পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের জবাবে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী এর চেয়েও ভয়াবহ ও কঠোর পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।