কানাডার বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া স্মরণকালের ভয়াবহ দাবানলের বিষাক্ত ধোঁয়া এবার গ্রাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিকে।
বাতাসের মান মারাত্মকভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় শহরটির পরিবেশ এখন চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা বোঝাতে গিয়ে মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার (ইপিএ) সাবেক কর্মকর্তা ও বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞ মাইকেল পেট্রনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে নিউইয়র্কের উন্মুক্ত বাতাসে এক দিন অবস্থান করা আর প্রায় ১০টি সিগারেট খাওয়া একই কথা।
মেগা টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে এখন বিশ্ব ক্রীড়ামোদীদের নজর এই শহরের দিকে। ঠিক এমন আবহেই নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনস্বাস্থ্যের ওপর এই পরিবেশগত বিপর্যয়ের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পেট্রনি। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ নাগরিকদের জন্য জরুরি স্বাস্থ্য নির্দেশিকা জারি করতে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
সাবেক এই সরকারি কর্মকর্তার মতে, বর্তমান বায়ু মান সূচক বা একিউআই (AQI) বিশ্লেষণ করে এই হিসাব বের করা হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, বাতাসে একিউআইয়ের মাত্রা প্রতি ২০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাওয়া মানে মানবদেহে একটি সিগারেট ধূমপানের সমপরিমাণ ক্ষতি হওয়া। বাতাসের এই অতিক্ষুদ্র ও বিষাক্ত ধূলিকণাগুলো শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই ফুসফুস ভেদ করে মানুষের রক্তপ্রবাহে মিশে যাচ্ছে, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার ও মারাত্মক হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
হিসাব কষে এই পরিবেশবিজ্ঞানী আরও উলেখ করেন, ফাইনাল খেলার মূল সময়, মধ্যবর্তী বিরতি, সম্ভাব্য অতিরিক্ত সময় এবং খেলা শুরুর আগের আনুষ্ঠানিকতা মিলিয়ে কোনো দর্শক বা ক্রীড়াপ্রেমী যদি স্টেডিয়াম কিংবা এর আশপাশের খোলা জায়গায় টানা তিন ঘণ্টা অবস্থান করেন, তবে তার শরীরে প্রায় আড়াইটি সিগারেট পানের সমান বিষাক্ত উপাদান প্রবেশ করবে।
বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিউইয়র্ক ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বায়ু মান সূচক এখন ১৫১ থেকে ২০০-এর ঘরে ওঠানামা করছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অস্বাস্থ্যকর। এমন বৈরী পরিস্থিতির মাঝেই বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন আয়োজক কমিটি।
তবে খেলা স্থগিত বা পেছানোর কোনো সম্ভাবনা আপাতত নেই জানিয়ে হোয়াইট হাউস বিশ্বকাপ টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি স্পষ্ট করেছেন যে, জলবায়ুর এই প্রতিকূল অবস্থা তাদের নজরে রয়েছে। তা সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি বজায় রেখেই বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বলে ওয়াশিংটন প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।