সৌদি আরব-পাকিস্তান-তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ইরানের কড়া বার্তা
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিরতার আবহেই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। শুক্রবার মক্কায় সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশ আক্রমণের শিকার হলে তা তিন রাষ্ট্রের ওপরই যৌথ আঘাত হিসেবে গণ্য হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই জোট গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
চুক্তি সম্পাদনের পরপরই এটি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের সংসদীয় এক প্রতিনিধি। তার অভিমত, কেবল এ ধরনের সমঝোতা চুক্তি দিয়ে রিয়াদ নিজেদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে পারবে না। নিজ ভূখণ্ডের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে সৌদি রাজপরিবারকে মূলত নিজেদের সার্বিক পররাষ্ট্রনীতিতে ইতিবাচক রূপান্তর আনতে হবে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজাই এক বার্তায় মন্তব্য করেন, আঙ্কারা কিংবা ইসলামাবাদের সাথে করা এই ধরনের চুক্তি কেবল কাগজের কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং রিয়াদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করতে ব্যর্থ হবে। তিনি আরও যোগ করেন, ওয়াশিংটনের ওপর দীর্ঘদিনের একপাক্ষিক নির্ভরতা যেখানে তাদের পূর্ণ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে এই নতুন ত্রিদেশীয় জোটও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দিতে পারবে না। রেজাই জোর দিয়ে বলেন, বাইরের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার দিকেই সৌদি আরবের নজর দেওয়া উচিত।
তবে এই ত্রিদেশীয় জোটের বিষয়ে তেহরানের প্রশাসনিক পর্যায় থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে সমঝোতা স্মারকটি প্রসঙ্গে তুরস্কের একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি স্পষ্ট করেছেন যে, এই ঐক্যের মূল ভিত্তি কেবল নিজেদের আত্মরক্ষা, কোনো নির্দিষ্ট রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এছাড়া এই চুক্তির ফলে পূর্বে সম্পাদিত কোনো আন্তর্জাতিক কিংবা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও জানান তিনি।