৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এ.এম

সুনামগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভেঙে বিএনপির সমাবেশ

সুনামগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভেঙে বিএনপির সমাবেশ
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় প্রশাসনের আরোপিত ১৪৪ ধারা অমান্য করেই নিজস্ব কর্মসূচি সম্পাদন করেছেন বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা। শনিবার সকাল হতে মধ্যাহ্ন পর্যন্ত পৌর এলাকার থমথমে পরিবেশের মধ্যেই এই পৃথক তৎপরতা চালানো হয়।

উপজেলা প্রশাসন ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, জাতীয়তাবাদী দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং একই দিনে পাল্টাপাল্টি সভার ঘোষণাকে ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির উদয় হলে সকাল থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত পৌর জুড়ে ১৪৪ ধারা প্রয়োগের আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সনজীব সরকার। এই আদেশের আওতায় থানা পয়েন্ট, দিরাই বাজার, কলেজ রোড ও বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরণের জমায়েত, পদযাত্রা কিংবা জনসভা আয়োজনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

তবে প্রশাসনিক এই আদেশ তোয়াক্কা না করেই সকাল থেকেই পৌরসভার মোড়ে মোড়ে মিছিল বের করতে শুরু করেন বিএনপির একটি অংশের অনুসারীরা। তারা পরবর্তীতে জড়ো হয়ে বাগানবাড়ি কমিউনিটি সেন্টারে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা পাভেল চৌধুরী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর অনুজ মাসুক চৌধুরী এই অংশটির নেতৃত্ব প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, এর পূর্বে গত বৃহস্পতিবার থানা পয়েন্ট এলাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি স্মরণে একটি সমাবেশের আয়োজন করেছিল সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর অনুসারী গোষ্ঠী। সেটিরই প্রতিক্রিয়ায় পাভেল চৌধুরী ও মাসুক চৌধুরীর সমর্থকেরা শনিবার পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দিলে পুরো এলাকায় চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়।

অন্যদিকে, সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর অনুসারিরা তাদের শীর্ষ নেতাকে বাদ দিয়ে অপর পক্ষের আয়োজনের প্রতিবাদে মূল অনুষ্ঠানস্থলের অদূরে বিক্ষোভ ও পথসভা করার চেষ্টা চালান। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে তারা একটি পৃথক স্থানে নিজেদের সভা সম্পন্ন করেন।

অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বড় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে নি।

দিরাই থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ও চাপা অস্বস্তি থাকলেও কোনো ধরনের অঘটন ঘটেনি। সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিকেলের শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের এই কড়া পর্যবেক্ষণ বলবৎ থাকবে।