৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০১ এ.এম

'আয়নাঘরে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছিল তারেক রহমানকেও'

'আয়নাঘরে পৈশাচিক নির্যাতন করা হয়েছিল তারেক রহমানকেও'

এক এগারোর শাসনকালে ডিজিএফআই সদর দপ্তরের গোপন প্রকোষ্ঠ জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) অন্তরীণ রেখে তারেক রহমানের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রাজধানীর ডিজিএফআই সদর দপ্তরে অবস্থিত আয়নাঘর নামে পরিচিত সেই বিতর্কিত গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।


সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখার পর অসন্তোষ প্রকাশ করে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন যে, বিগত শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একটি মানবতাহীন রাষ্ট্র ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছিল। কেবল ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমন ও অসৎ উদ্দেশ্যে এই যাতনা কেন্দ্রগুলো গড়ে তোলা হয়, যেখানে অসংখ্য মানুষকে বছরের পর বছর ধরে আটকে রাখা হতো। এক এগারোর পটভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, সে সময়েও জেআইসি সেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বন্দি বানিয়ে অমানুষিক নিপীড়ন করা হয়েছিল।

গোপন এই বন্দিশালা প্রতিষ্ঠার পেছনে যাদের ভূমিকা ছিল, তাদের প্রত্যেককে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, এই নির্যাতনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত সকলকে আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে আনার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তদন্ত চলাকালীন আরও যাদের নাম উঠে আসবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে তদন্তের কাজ বাধাগ্রস্ত করার সুনির্দিষ্ট চেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি অভিযোগ করেন, গত পাঁচই আগস্টের পর থেকে উক্ত গোপন কেন্দ্রের ভেতরের বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। অনেক স্থানের দেয়াল সংস্কার করে বা ঢেকে দিয়ে প্রকৃত আলামত মোছার অপচেষ্টা চলেছে।

আইনগত প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় এই সরেজমিন পরিদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, বিচারিক কাজের স্বার্থে অকুস্থল পরিদর্শনের পূর্ণ আইনি এখতিয়ার বিচারকদের রয়েছে। সত্য উদঘাটন ও নিরপেক্ষ বিচার সুনিশ্চিত করতে সেখানকার বিদ্যমান পরিস্থিতি পরখ করা এবং অবশিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা আবশ্যক ছিল। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো নাগরিককে এভাবে বিনা বিচারে আটকে রেখে নির্যাতন সহ্য করতে না হয়, সে বিষয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।