৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫২ পি.এম

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২

যুক্তরাষ্ট্রে দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ২
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ রাজ্যে ভয়াবহ দাবানল দমন কার্যক্রম চলাকালে একটি হেলিকপ্টার আছড়ে পড়ে চালকসহ দুই ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার আল জাজিরার বরাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস বা মার্কিন বন বিভাগের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে 'হেলিকপ্টার ট্র্যান্সপোর্ট সার্ভিসেস' নামের একটি প্রতিষ্ঠান যানটি পরিচালনা করছিল। সিকোরস্কি এস-৬৪ ‘স্কাইক্রেন’ মডেলের ভারী ওই হেলিকপ্টারটি স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রিচফিল্ড এলাকার একটি জলাধারের কাছে অগ্নিকাণ্ড কবলিত দক্ষিণ-পূর্ব অংশে দুর্ঘটনার শিকার হয়।

দুর্ঘটনার একদিনেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর শনিবার ন্যাশনাল ইন্টারএজেন্সি ফায়ার সেন্টার (এনআইএফসি) আনুষ্ঠানিকভাবে দুইজন ক্রুর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে। একই সাথে এই ঘটনায় আরও দুই ক্রু সদস্য মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানায় সংস্থাটি।

প্রচণ্ড দাবানলের প্রকোপ ও পাহাড়ি এলাকার বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত ধ্বংসাবশেষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে শনিবার নিহতদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হলেও তাদের পারিবারিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পরপরই সাময়িকভাবে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে কৌশলগত কারণে সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পুনরায় আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয় বলে জানান ডেপুটি ইনসিডেন্ট কমান্ডার টাইলার হেক্ট। তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাটি সার্বিক উদ্ধার তৎপরতায় বাধা হবে না এবং আকাশপথের পাশাপাশি ভূমিতে থাকা কর্মীরা সমন্বিতভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন।

এদিকে উটাহর গভর্নর স্পেন্সার কক্স বনাঞ্চলের অগ্নিনির্বাপণকে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ পেশা হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও প্রার্থনা জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই ফিশলেক ন্যাশনাল ফরেস্টে প্রাকৃতিক বজ্রপাত থেকে ‘ওয়াইডমাউথ ২’ নামের এই প্রলয়ঙ্করী দাবানলের সূত্রপাত ঘটে। ইতোমধ্যে এই আগুনে এক লাখ ১১ হাজার একরের বেশি বনাঞ্চল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা চলতি মৌসুমে রাজ্যটির সবচেয়ে বড় দাবানল হিসেবে চিহ্নিত।

সর্বশেষ শনিবার পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আগুনের অন্তত ২৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও তা লোকালয়ের জন্য এখনও বড় হুমকি তৈরি করে রেখেছে। এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে আশেপাশের অধিবাসীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গতঃ চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে উটাহ রাজ্যে এটি দাবানল সংক্রান্ত দ্বিতীয় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এর পূর্বে গত জুনে কলোরাডো সীমান্ত লাগোয়া নোলস ও গোর এলাকার আগুন সামাল দিতে গিয়ে ৪ জন দমকলকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন।